এদিন এএসপি মো. আনিসুল করিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদাবর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ফারুক মোল্লা প্রতিবেদন দাখিল করেননি। এজন্য আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়েছে নতুন এ দিন ধার্য করেন।
গত ১০ নভেম্বর আদাবর থানায় আনিসুল করিম শিপনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফাইজুদ্দিন আহম্মেদ বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন, মো. সাখাওয়াত হোসেন ও সাজ্জাদ আমিন। এ মামলার আসামি মাইন্ড এইড হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয়, পরিচালক ফাতেমা খাতুন ময়না, মুহাম্মাদ নিয়াজ মার্শেদ, কো-অর্ডিনেটর রেদোয়ান সাব্বির, কিচেন সেফ মো. মাসুদ, ওয়ার্ড বয় জোবায়ের হোসেন, ফার্মাসিস্ট মো. তানভীর হাসান, ওয়ার্ড বয় মো. তানিম মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম চন্দ্র পাল, মো. লিটন আহাম্মদ, মো. সাইফুল ইসলাম পলাশ কারাগারে আছেন।
.png)
অন্যদিকে মামলায় একমাত্র আসামি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জামিনে আছেন। এদিকে এ মামলায় আসামি কিচেন সেফ মাসুদ খান, ওয়ার্ড বয় অসীম চন্দ্র পাল, মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয়, সজিব চৌধুরী, হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট মো. তানভীর হাসান ও ওয়ার্ডবয় মো. তানিম মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মো. আনিসুল করিম চিকিৎসার জন্য গত ৯ নভেম্বর দুপুরে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেলা পৌনে ১২ টার দিকে আরিফ মাহমুদ জয় আনিসুলকে ওয়াশরুমে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হাসপাতালের দোতলায় নিয়ে যান। তখন তার বোন কথা বলতে চাইলে আসামি আরিফ মাহমুদ জয় ও রেদোয়ান সাব্বির বাধা দেয় এবং কলাপসিবল গেট আটকে দেন। এরপর এজাহারে উল্লেখিতসহ আরো অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আমার ছেলে মো. আনিসুল করিমকে চিকিৎসার নামে দোতলার একটি অবজারভেশন রুমে (বিশেষভাবে তৈরী কক্ষ) নিয়ে যান।
উক্ত আসামিরা এএসপি আনিসুলকে রুমের ফ্লোরে জোরপূর্বক উপুড় করে শুইয়ে ৩/৪ জন হাটু দ্বারা পিঠের উপর চেপে বসেন। এসময় কয়েকজন তাকে পিঠ মোড়া করে ওড়না দিয়ে দুই হাত বাঁধেন। কয়েক জন আসামি কনুই দিয়ে আনিসুলের ঘাড়ের পিছনে ও মাথায় আঘাত করেন। একজন মাথার উপরে চেপে বসেন এবং আসামিরা সকলে মিলে তার পিঠ, ঘাড় সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে কিল ঘুষি মেরে আঘাত করেন। এরপর বেলা ১২ টার দিকে আনিসুল নিস্তেজ হয়ে পড়েন। যা হাসপাতালে স্থাপিত সিসিটিভি'র ভিডিও ফুটেজে দৃশ্যমান। নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার পর আসামি আরিফ মাহমুদ জয় নিচে এসে পরিবারের সদস্যদের ইশারায় উপরে যাওয়ার জন্য ডাক দেয়। এরপর তার বাবা, ভাই ও বোন অবজারভেশন রুমে গিয়ে আনিসুলকে ফ্লোরে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান। অতঃপর তাকে জরুরী ভিত্তিতে একটি প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্সে করে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা করে এএসপি আনিসুলকে মৃত ঘোষণা করেন।