ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

আয়াজ হত্যায় ছয়জনের যাবজ্জীবন, রায়ে সন্তুষ্ট বাবা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:৫৫, ১০ ডিসেম্বর ২০২০
আয়াজ হত্যায় ছয়জনের যাবজ্জীবন, রায়ে সন্তুষ্ট বাবা 
রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আয়াজের বাবা আইনজীবী শহিদুল হক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছাত্র আয়াজ হক হত্যা মামলায় আসামি ইনজামামুল ইসলাম ওরফে জিসানকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ডসহ সিটি কলেজের ছয় ছাত্রের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন এ আদেশ দেন। এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আয়াজের বাবা আইনজীবী শহিদুল হক।

তিনি বলেন, আজ আমার ছেলের হত্যা মামলার রায়ে একজনের আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ডসহ ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, কোন বাবাকে যেন তার সন্তানের লাশ কাঁধে বহন করা না লাগে। আর শিশুরা যেন কিশোর গ্যাং এর মতো বিপদগামী না হয়। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- তৌহিদুল ইসলাম, মশিউর রহমান আরাফ, তৌহিদুল ইসলাম শুভ, আবু সালেহ মো. নাসিম ও আরিফ হোসেন রিগ্যান। আসামিরা ধানমন্ডি সিটি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিলেন। 

এদিন কারাগারে আটক আসামি ইনজামামুন ইসলাম ওরফে জিসান ও তৌহিদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালত তাদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিদের সাজা পরোয়ানা করে পাঠানো হয়। 

তবে এ মামলায় মশিউর রহমান আরাফ, তৌহিদুল ইসলাম শুভ, আবু সালেহ মো. নাসিম ও আরিফ হোসেন রিগ্যান পলাতক থাকায় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। 

ছেলে আয়াজ হত্যার ঘটনায় তার বাবা আইনজীবী শহীদুল হক ২০১৪ সালের ৯ জুন ধানমন্ডি থানায় সিটি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ওই ছয় ছাত্রের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এরপর ২০১৫ সালের ১৩ মে ধানমন্ডি থানার এসআই সাহিদুল বিশ্বাস ৪৭ জনকে সাক্ষী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন। বিচার চলাকাল বিভিন্ন সময়ে আদালত ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৯ জুন সিটি কলেজের প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও খরচ বাবদ টাকা তোলার বিষয় নিয়ে আয়াজের বড় ভাই সিটি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আশদিন হকের সঙ্গে আসামিদের কথা কাটাকাটিসহ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে আয়াজকে ওই দিন বিকেলে ধানমন্ডি থানার জিগাতলায় যাত্রী ছাউনির নিকটে একা পেয়ে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে এলোপাতাড়ি মারপিট করে মারাত্মকভাবে জখম করে। এরপর আয়াজকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!