এএসপি আনিস হত্যা মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ
এজাহারভুক্ত এক আসামির নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়ায় এএসপি আনিস হত্যা মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
নারাজির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বুধবার আদাবর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই শরীফুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।
.png)
জানা যায়, এ মামলার এজাহারে ডা. নুসরাত নামে একজনকে আসামি করা হয়নি। কিন্তু মামলা দায়েরের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন তিনি। তবে চার্জশিটে তার নাম আসেনি। এএসপি আনিসের পরিবারের ধারণা, ডা. নুসরাত ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এজন্য মামলাটি পুনরায় তদন্তের আবেদন করেন আনিসের বাবা ফাইজুদ্দীন আহম্মেদ। পরে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
গত ৮ মার্চ ঢাকার আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আদাবর থানার ইন্সপেক্টর মো. ফারুক মোল্লা ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- মাইন্ড এইড হাসপাতালের পরিচালক আরিফ মাহমুদ, ফার্মাসিস্ট তানভীর হাসান, কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, সাজ্জাদ আমিন ও ফাতেমা খাতুন, হাসপাতালের সমন্বয়ক রেদোয়ান সাব্বির, হাসপাতালের কর্মচারী মাসুদ খান, জোবায়ের হোসেন, তানিফ মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম কুমার পাল, লিটন আহম্মেদ, সাইফুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মামুন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মধ্যযুগীয় কায়দায় এএসপি আনিসুল করিমকে আঘাত করা হয়েছিল। মাইন্ড এইড হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অপেশাদার লোকদের দিয়ে আনিসুলের দুই হাত পিঠ মোড়া দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর আসামিরা ঘাড়ে, বুকে, মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মাইন্ড এইড হাসপাতালটি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য মালিকপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদফতর বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার অনুমতি নেয়নি। হাসপাতালে অত্যাবশ্যকীয় কোনো জরুরি চিকিৎসা ও সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এএসপি আনিসুল করিমকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠান আবদুল্লাহ আল মামুন। স্বীকারোক্তিতে আরিফ মাহামুদ জয় ও তানিফ মোল্লা এ ঘটনার সঙ্গে চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রকাশ করে।
২০২০ সালের ১০ নভেম্বর আদাবর থানায় আনিসুল করিম শিপনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফাইজুদ্দিন আহম্মেদ বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে আসামি মাসুদ খান, অসীম চন্দ্র পাল, আরিফ মাহমুদ, সজিব চৌধুরী, মো. তানভীর হাসান ও মো. তানিম মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আনিসুল করিম ৩১তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি সর্বশেষ বরিশাল মহানগর পুলিশে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি এক সন্তানের জনক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন তিনি।