দিন-দুপুরে ৯৮ ভরি সোনা ডাকাতির এ ঘটনায় রাজধানীর কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মামলায় কনস্টেবল মুন্সী মো. কামরুজ্জামান ওরফে লিংকন ও তার স্ত্রী নাহিদা নাহার মেমিসহ ১১ জন বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। সম্প্রতি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়।
চার্জশিটভুক্ত অন্য ৯ আসামি হলেন- মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে সুমন, উত্তম চন্দ্র মজুমদার, মো. শরীফুল ইসলাম, মো. জাকির হোসেন, মো. রহমান সরদার, আনন্দ পাল, মো. নজরুল ইসলাম ওরফে বাবুল, উত্তম পাল ও দুলাল চন্দ্র পাল।
.png)
কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার এসআই অলোক কুমার দে বলেন, ৯৮ ভরি সোনা ডাকাতির মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটে কনস্টেবল কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নাহিদাসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নাহিদার কাছ থেকে ৩৬ ভরিসহ মোট ৫১ ভরি সোনা ও লুণ্ঠিত সোনা বিক্রির নগদ ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়, যা আদালতের মাধ্যমে বাদীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আসামিদের মধ্যে আনন্দ পাল, উত্তম পাল ও দুলাল পাল পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া নাসির ও মালেকের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, আসামিদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম ওরফে সুমন মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও ডাকাতদলের হোতা। অন্যরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। শফিকুলের নেতৃত্বে আসামিরা পুলিশের পোশাক পরে সংঘবদ্ধভাবে যানবাহনে থাকা যাত্রীদের টার্গেট করতো। এরপর সুযোগ বুঝে তাদের পথরোধ করে ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতো। আসামি জাকির ও উত্তম মজুমদার পরস্পর বন্ধু। তারা একত্রে বিভিন্ন ডাকাতিতে অংশ নেয়।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী দোকান কর্মচারী বরুণ ঘোষ ছয় মাস আগে থেকে বিভিন্ন সময় গলানো সোনা কারখানায় আনা-নেয়ার কাজ করতেন। ২০২২ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে গলানো ৯৮ ভরি সোনা নিয়ে মোটরসাইকেলে রাজধানীর তাঁতীবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। কেরানীগঞ্জ এলাকায় মোটরসাইকেল রেখে নৌকায় নদী পার হয়ে ওয়াইজঘাট ডাব পট্টি ঘাটে নেমে তাঁতীবাজারে যান। কিন্তু কারখানা বন্ধ থাকায় বরুণ সঙ্গে থাকা সোনা নিয়ে ফিরে আসেন। একইভাবে নদী পার হয়ে মোটরসাইকেলের কাছে আসেন। ঐ সময় দুইজন সিভিল ও দুজন পুলিশের পোশাক পরা লোক তার সামনে আসে এবং তাকে বলে তার কাছে মাদক আছে।
আসামিরা বরুণকে তাদের সঙ্গে মাইক্রোবাসে তুলে তাকে কিলঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে এবং ৯৮ ভরি সোনা ও তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা বরুণকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ থাকতে বলে। চিৎকার-চেচামেচি করলে জানে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। আসামিরা বরুণকে মাইক্রোবাসে করে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ ঝিলমিল প্রজেক্টের ফাঁকা রাস্তায় ফেলে রায়।
চার্জশিটে আরো বলা হয়, কনস্টবল মুন্সী কামরুজ্জামান ও আসামি আনন্দ পালকে গ্রেফতার করা হয়। উত্তম পালের বাসা থেকে ৯ ভরি ৮ আনা সোনা, দুলাল পালের বাসা থেকে পাঁচ ভরি ১৪ আনা সোনা জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে আসামি সুমনের কাছে লুণ্ঠিত সোনার অলংকার বিক্রির আট লাখ টাকা, আসামি উত্তম মজুমদারের কাছে থেকে চার লাখ টাকা ও আসামি শরীফের কাছে থেকে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। আসামি রহমানকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছে থেকে মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।