ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

৬ বছরের ছেলের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শাহিনকে

মিনহাজুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১৬:৫০, ১৭ মে ২০২৩
৬ বছরের ছেলের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শাহিনকে
নিহত শাহিন উদ্দিন- ফাইল ফটো

‘আমার এক ছেলেকে দুই বছর আগে মেরে ফেলেছে। এখন খুনিরা আরেক ছেলেকেও খুন করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন কোথায় যাবো?’ কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর পল্লবীতে খুন হওয়া শাহিন উদ্দিনের মা আকলিমা বেগম।

তিনি বলেন, খুনিরা জামিনে বের হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। খুনি টিটু প্রকাশ্যে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৬ মে রাজধানীর পল্লবীতে নিজ সন্তানের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা শাহিন উদ্দিনকে। হত্যাকাণ্ডের রাতেই নিহতের মা আকলিমা বেগম পল্লবী থানায় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ মামলার আসামিরা হলেন- সুমন, আবু তাহের, মুরাদ, মানিক, মনির, শফিক, টিটু, কামরুল, কিবরিয়া, দিপু, আবদুর রাজ্জাক, মরন আলী, লিটন, আবুল, বাইট্যা বাবু, বড় শফিক, কালু ওরফে কালা বাবু, নাটা সুমন ও ইয়াবা বাবু।

Advertisement

এজাহারে আকলিমা বেগম বলেন, ২০২১ সালের ১৬ মে বিকেল ৪টার দিকে সুমন ও টিটু নামে দুই যুবক শাহিন উদ্দিনকে জমির বিরোধ মেটানো হবে জানিয়ে ফোন করে ডেকে নেন। শাহিন মোটরসাইকেলে পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাসার সামনে গেলে সুমন ও টিটুসহ ১৪-১৫ জন মিলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে ঐ বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর গ্যারেজ থেকে বের করে ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে নিওয়ে আবার কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনের মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় শাহিন উদ্দিনের ৬ বছরের ছেলে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ মামলায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার হোসেন। অভিযুক্তরা হলেন- সুমন ব্যাপারী, টিটু, কিবরিয়া, মুরাদ হোসেন, আবু তাহের, ইব্রাহিম সুমন, রকি তালুকদার, শফিকুল ইসলাম, তুহিন মিয়া, হারুন অর রশীদ, তারিকুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ, হাসান ও ইকবাল হোসেন। এরমধ্যে সুমন ও শফিকুল ছাড়া বাকি ১৩ আসামি কারাগারে। তাদের মধ্যে ৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে ঐ তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দেন নিহতের মা আকলিমা বেগম। গত বছরের ১২ মে শাহিন উদ্দিনের মায়ের নারাজির আবেদন গ্রহণ করেন আদালত। একই সঙ্গে পিবিআইকে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। নারাজির বিষয়ে আকলিমা বেগম বলেন, যারা জড়িত ছিল তাদের কয়েকজনকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দিয়েছিল ডিবি পুলিশ। আদালত নারাজি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তভার দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, টিটুসহ কয়েকজন আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছে। এরপর থেকেই তারা আমাদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। কিছুদিন ধরে টিটু আমার আরেক ছেলেকেও হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।

জানা গেছে, আদালত পিবিআই এক বছরের বেশি সময় মামলাটি তদন্ত করেছে। আগামী ২১ মে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!