রোববার ঢাকার-১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোর্শেদ আলম শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
.png)
এর আগে, ৪ নভেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে সাংবাদিক মোল্লা জালালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঐদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আখতারুজ্জামান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ১ নভেম্বর অপহরণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সাংবাদিক মোল্লা জালাল ও তার সহযোগী সলেমান ওরফে সেলিমের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন এক নারী। এজাহারে তিনি নিজেকে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচয় দেন।
মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, মোল্লা জালাল সাংবাদিকতার পরিচয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। আমি একজন সংগীতশিল্পী। ২০০৭ সালে ভালুকা প্রেসক্লাবে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সুবাদে মোল্লা জালালের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে শাহবাগ থানাধীন শিল্পকলা মৎস্য ভবন গেটের সামনে পিঠার দোকানের সামনে আসামি মোল্লা জালালের একজন লোক রানার সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়।
তখন স্থানীয় লোকজন মীমাংসা করে দেন। আমি সেখানে কাজ শেষে শিল্পকলা হয়ে হেঁটে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। সাড়ে ৭টায় হাইকোর্ট গেটের কাছে সলেমান ওরফে সেলিম ও অজ্ঞাত একজন লোক আমার চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে জোর করে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত বাসায় নিয়ে যান।
ঐ স্থানে মোল্লা জালাল, সলেমান ওরফে সেলিম এবং অজ্ঞাত ঐ ব্যক্তি আমাকে চুলের মুঠি ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করেন। অন্যদের সহায়তায় মোল্লা জালাল শ্লীলতাহানি এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমি চিৎকার করলে আসামি আমাকে ছেড়ে দেন এবং বিভিন্ন ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন।
পরদিন ভোর ৫টার দিকে সলেমান ওরফে সেলিম ও অজ্ঞাত ব্যক্তি গাড়িতে করে আমাকে রমনা পার্কের ওভারব্রিজের কাছে রাস্তায় রেখে চলে যান। আমি বাসায় ফিরে আমার ছেলে এবং ছেলের স্ত্রীর কাছে ঘটনার বিস্তারিত বলি।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এসে এজাহার দায়ের করায় বিলম্ব হয় বলেও জানান তিনি।