ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদ ঘিরে তিন-চার মাস আগে থেকেই মশলা আমদানি শুরু করা হয়। এর ফলে দেশের বাজারে বিপুল পরিমাণ মশলা আমদানি হলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে প্রতিবছরই গরম মশলার দাম লাফিয়ে বাড়ে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের মসলা পণ্যের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে এলাচির দাম। বর্তমানে খুচরা বাজারে এলাচি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকায়। টিসিবির হিসাবে গত বছর এলাচির দাম ছিল ১৬০০ থেকে ২৮০০ টাকা। এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ।
.png)
দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১৫৫০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজি দরে। এদিকে জিরার দাম সামান্য কমেছে। প্রতিকেজি জিরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। গত বছরে এর দাম ছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। প্রতিকেজি ধনের বাজারমূল্য ২২০ থেকে ২৮০ টাকা। তেজপাতার কেজি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। কিশমিশ ৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোলমরিচের কেজি ৯০০ টাকা।
বছর ঘুরে দেশীয় জাতের শুকনা মরিচের দাম কমলেও বেড়েছে আমদানিকৃত মরিচের দাম। দেশীয় জাতের শুকনা মরিচ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকৃত শুকনা মরিচের কেজি ৪২০ থেকে ৫০০ টাকা। বাজারে দেশীয় রসুনের কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা।
এদিকে বাজারে পেঁয়াজ ও ডিমের দাম বেড়েই চলেছে। প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায়। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকায়।
রাজধানীর শাহজাদপুর, বাড্ডা, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকায়। কোথাও কোথাও প্রতি ডজন ১৬৫ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। বেশ কিছুদিন থেকেই ডিম বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ক্রেতা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ডিম কিনলাম প্রতি ডজন ১৬৫ টাকায়। কয়েকদিন আগে ১৩০ টাকায় কিনেছি। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আকাশছোঁয়া। সরকার কয়েকদিন পর পর দাম নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু এটা ব্যবসায়ীরা মানেন না। বাজার তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।