ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি কিংবা স্পেনের বার্সেলোনার মতো বিশ্বের সেরা সব উপকূলীয় শহরের আদলে কক্সবাজারকে এশিয়ার অন্যতম আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২০ বছর মেয়াদি নতুন এক সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কক্সডিএ) সূত্রের খবর, নতুন এই নগর পরিকল্পনাকে নিখুঁত ও বিজ্ঞানসম্মত করতে সৈকতসংলগ্ন বিভিন্ন জোনের মাটি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। যৌথ এক বৈঠক শেষে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনের যে লক্ষ্য রয়েছে, সেখানে কক্সবাজারকে অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র বা 'গ্রোথ সেন্টার' হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
.png)
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় বহুতল অবকাঠামো সংক্রান্ত ৫০ ও ৫০০ মিটারের পুরনো আইনি বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১১-২০৩১ সালের তৈরি প্রথম মাস্টারপ্ল্যানে কঠোর বন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ থাকলেও পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে তা উপেক্ষা করেই বহু হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠেছিল। নতুন নীতিমালায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই আধুনিক বহুতল ভবন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু, রেল ও সড়ক যোগাযোগ উন্নত করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং নিরবচ্ছিন্ন পানি শোধনাগারের পরিকল্পনা যুক্ত করা হচ্ছে।
তবে গবেষক ও ভূতত্ত্ববিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, কক্সবাজার ও কুয়াকাটা অঞ্চলের মাটি মূলত নরম পলি ও বালুসমৃদ্ধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ খানের মতে, ৩০ তলা বা তারচেয়ে উঁচু ভবনের জন্য গভীর পাইল ফাউন্ডেশন প্রয়োজন, যা প্রকৌশলগতভাবে ব্যয়বহুল ও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ১৯৯৯ সালে কক্সবাজারকে 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছিল; ফলে নতুন মাস্টারপ্ল্যানে যে কেবল বৈজ্ঞানিক মাটি পরীক্ষার ফলাফলই গুরুত্ব পাবে তা নয়, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করাও অন্যতম বড় শর্ত হিসেবে থাকছে।