অক্টোবরে আসছে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আসা শুরু হবে। কয়েকটি ফ্লাইটে এসব জ্বালানি আনা হবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি চার্টার্ড ফ্লাইটে জ্বালানি আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই প্রথম চালান দেশে পৌঁছাতে পারে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম চালান আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত আকাশপথের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়। পরে নতুন সূচি অনুযায়ী জ্বালানি পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রোসাটম ২৮ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। চুক্তির শর্ত ও প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কয়েকটি ফ্লাইটে জ্বালানি পরিবহন করা হবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ সরবরাহ সম্পন্ন হবে।
.png)
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি। পরে রোসাটম অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নতুন করে জ্বালানি পাঠানোর সময়সূচি দেয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেমব্লি দুটি ফ্লাইটে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর একটি ২৪ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১ অক্টোবর দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য সাতটি সাপ্তাহিক ফ্লাইটের আগের সূচি ছিল ৮ অক্টোবর থেকে।
রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানি পরিবহনের নির্ধারিত আকাশপথে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে রোসাটম প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের জানায়, নির্ধারিত রুটের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে সংশোধিত সূচিতে জ্বালানি পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি ফ্লাইটে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেমব্লি আনার পরিকল্পনার কথা প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও এ সময়ের মধ্যে আনার কথা রয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি কয়েকটি চালানে বাংলাদেশে আনা হয়। রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, ওই ইউনিটের জন্য প্রথম ব্যাচের জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে।
এদিকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি ওই সাক্ষাতে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। হাইকমিশনারের সঙ্গে এটিই ছিল তার প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই বলেও তিনি জানান।
অক্টোবরে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।