ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
ভোলায় সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রিপা

সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি মায়ের

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪৮, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি মায়ের
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সারমিন আক্তার রিপা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ধর্ষণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে আইনানুগভাবে ডিএনএ পরীক্ষা, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সারমিন আক্তার রিপা।

মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব দাবি জানান। এ সময় তিনি সরকার ও জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে সারমিন আক্তার রিপা অভিযোগ করেন, তার চাচাতো ভাই মো. সিরাজ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে সিরাজ তার বন্ধু জনতা বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (দপ্তরি) জুলফিকার আলী ওরফে মিজানুর রহমানকে সেখানে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে সিরাজ ও জুলফিকার আলী তাকে ধর্ষণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সারমিনের দাবি, ওই ঘটনার পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরবর্তীতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তিনি জুলফিকার আলী ওরফে মিজানুর রহমানকে শিশুটির বাবা দাবি করলেও তিনি পিতৃত্ব স্বীকার করছেন না এবং ডিএনএ পরীক্ষায় সম্মতি দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন সারমিন।

তিনি বলেন, আমি কারও বিরুদ্ধে অন্যায় করতে চাই না। আমি শুধু সত্য জানতে চাই। আইনানুগ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা হোক। পরীক্ষায় পিতৃত্ব প্রমাণিত হলে আমার সন্তানের আইনগত অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সারমিন আরও অভিযোগ করেন, মামলা করার পর থেকে তাকে মামলা তুলে নিতে এবং মুখ বন্ধ রাখতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া গ্রামের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় সিরাজ ও জুলফিকার আলীর ইন্ধনে মামুন হাওলাদার, বসার হাওলাদার, ওসমান গনি, সোহাগ, জিহাদ, মেহেদী হাসান, সাজু, সিয়াম, আকাশ, মিজান ও রুহুল আমিন কাজীসহ কয়েকজন বাড়িতে এসে তাকে মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হামলার সময় তার অসুস্থ ও বয়স্ক মাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সারমিন। তিনি বলেন, তার মা নামাজ পড়ার সময় বাধা দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে সোহাগ পেছন থেকে তাকে লাথি মারেন। এ ছাড়া তাকে সামাজিক ও আইনি চাপে রাখতে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর এবং মিথ্যা মাদক মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন সারমিন। তার মায়ের বিরুদ্ধেও একটি মামলা করা হয়েছে, যেটিকে তিনি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সারমিন বলেন, ঘটনার পর ভোলার পুলিশ সুপার ও লালমোহন থানা পুলিশ তাকে আইনগত সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে মামলা ও বিভিন্ন প্রমাণ থাকার পরও তিনি এখনো কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি করেন। ফলে তিনি ও তার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান তিনি। তার সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে দ্রুত আইনানুগভাবে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা, ধর্ষণের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ১৩ সেপ্টেম্বরের হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ এবং তাকে ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা/এমকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!