গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের রায় স্থগিত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন হিসেবে উল্লেখিত গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।
রোববার (১৮ অক্টোবর) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটির শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
ওই সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল। পরবর্তী সময়ে ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়সংক্রান্ত আগের রায় স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই রায় প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান।
পরে মামলাটি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচটি করবর্ষের পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে আয়কর দাবি করে এনবিআর। ওই কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পরবর্তী সময়ে নতুন বেঞ্চে শুনানি শেষে রুল খারিজ করে এনবিআরের পক্ষে রায় দেওয়া হয়।
ওই রায়ের ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে দাবি করা অর্থ আদায়ের আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তবে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের সর্বশেষ আদেশে হাইকোর্টের সেই রায় আপাতত স্থগিত থাকছে।
এখন আগামী ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।