স্টলের সামনে গেলেই চোখে পড়ে অর্ধেক নামানো ভাঙাচোরা সাঁটার। সাঁটারের গায়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার), হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউবের লোগো সাঁটানো। পাশে একটি সাইনবোর্ডে লেখা— ‘সাহিত্য মরে যাচ্ছে, বন্ধ হচ্ছে প্রকাশনী। আপনি-আমিই বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনলাইনে শেয়ার করে দিচ্ছি দেদারসে। এতে লেখার প্রচার হলেও বইয়ের কদর কমে যায়। দিনশেষে লেখকের পরিবর্তে আর্থিকভাবে লাভবান হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো।’

.png)
আরেকটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে— ‘অনলাইনে প্রকাশিত সাহিত্যকর্মের ৮০ শতাংশ পাইরেসির শিকার হয়। আসুন, আমরা এই পাইরেসি থেকে বিরত থাকি।’ অন্য একটিতে লেখা— ‘প্রাপ্য সম্মানী না পেয়ে বহু লেখক হারিয়ে যাচ্ছেন। লেখক বাঁচবে কীভাবে?’
স্টলের ভেতরে একটি টেবিলে গুটিকয়েক বই সাজানো। ভেতরে ঢুকলে দেখা যায় ভাঙা চেয়ার, এলোমেলো পরিবেশ—সব মিলিয়ে যেন একটি পরিত্যক্ত ঘর। ভাঙা ফ্রেমে পড়ে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের ছবি। অবহেলায় পড়ে রয়েছে শিশুতোষ গ্রন্থ ঠাকুরমার ঝুলিসহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও জীবনানন্দ দাশের বই।
প্রকাশনীর সংশ্লিষ্টরা জানান, কপিরাইট আইন না মানলে লেখক তার সৃষ্টিকর্মের যথাযথ অধিকার ও সম্মান থেকে বঞ্চিত হন। অন্যরা সহজেই তার লেখা নকল করে ব্যবহার করতে পারে, ফলে লেখক আর্থিক ও নৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এতে লেখকদের নতুন সাহিত্য রচনার আগ্রহও কমে যায়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রকাশনা শিল্প। এর ফলে ধীরে ধীরে সাহিত্য তার গুরুত্ব হারায় এবং সমাজে অবহেলিত হয়ে পড়ে। তাই সাহিত্যকে মর্যাদা দিতে এবং সৃষ্টিশীলতা টিকিয়ে রাখতে কপিরাইট আইন মেনে চলা জরুরি।
বিদ্যানন্দ প্রকাশনীর ইভেন্ট ব্যবস্থাপক মনজুর আলম বলেন, এই ব্যতিক্রমী স্টলের মাধ্যমে তারা মূলত পাঠকদের সচেতন করতে চান। তিনি বলেন, আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার- পাঠক যেন সচেতন হন, বই কিনে লেখক ও প্রকাশককে বাঁচিয়ে রাখেন। অনেক সময় বইয়ের অংশ অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ায় বইটি সহজলভ্য হয়ে যায় এবং বিক্রি কমে যায়। আমরা চাই লেখক তার প্রাপ্য সম্মান ও সম্মানী পান।
_1773322325.jpeg)
এ ধরনের স্টল বিক্রিতে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিক্রিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে না। আমাদের মূল লক্ষ্য সচেতনতা তৈরি করা। আমার বই না কিনলেও যদি পাঠক অন্য কোনো বই কেনেন এবং পাইরেসি সম্পর্কে সচেতন হন, তাতেই আমাদের উদ্যোগ সার্থক হবে।
প্রসঙ্গত, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বইমেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৪৯টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি, মোট ইউনিট ১০১৮টি।