মিসওয়াক ইসলামের উন্নত রুচি ও পরিচ্ছন্নতার পরিচায়ক। মুমিনের ভেতরটা যেমন স্বচ্ছ ও কলুষতামুক্ত থাকবে তেমনি তার বাহিরও হবে সুন্দর ও পরিপাটি, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। সবধরনের কদর্যতা ও মন্দ স্বভাবমুক্ত।
মিসওয়াকের উপকার শুধু আধ্যাত্মিক না, শারীরিকও। মিসওয়াক মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, দাঁত মজবুত করে, মাড়ি সুস্থ রাখে, হজমশক্তি বাড়ায়। আধুনিক গবেষণাও বলছে, মিসওয়াকে এমন প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা মুখের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে।
.png)

মিসওয়াকের আরেকটি তাৎপর্য হলো, এটি প্রাকৃতিক। এতে কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক নেই, নেই প্লাস্টিকের ব্যবহার। পরিবেশবান্ধব এ উপকরণ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম সমাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক গবেষণায়ও বিভিন্ন ধরনের মিসওয়াক কাঠে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, দাঁত পরিষ্কারে সহায়ক খনিজ এবং মুখের দুর্গন্ধ কমানোর উপাদানের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে।
নবীজির জীবনে মিসওয়াকের সম্পর্ক ছিল প্রতিটা মুহূর্তে। ঘরে প্রবেশ করলে প্রথমে মিসওয়াক। ঘুম থেকে উঠলে প্রথমে মিসওয়াক। অজুর আগে মিসওয়াক। রাতে ঘুমানোর সময় শিয়রে মিসওয়াক রেখে ঘুমাতেন। সাহাবিরাও এই সুন্নাহকে এতটাই ভালোবাসতেন যে চলতে ফিরতে কানের পাশে মিসওয়াক গুঁজে রাখতেন।
মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তের কথা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কোলে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। এই মুহূর্তে আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর হাতে একটি তাজা মিসওয়াকের ডাল নিয়ে প্রবেশ করলেন। নবীজি সেদিকে তাকালেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বুঝলেন, তিনি মিসওয়াক চাইছেন। সেটি নিয়ে চিবিয়ে নরম করে তাঁর হাতে দিলেন। নবীজি সেই শেষ মুহূর্তেও সুন্দরভাবে মিসওয়াক করলেন। তারপর হাত ঢলে পড়ল। (বুখারি, হাদিস নং ৪৪৫১)
আজ থেকেই এই সুন্নাহটা জীবনের অংশ করুন। অজুর আগে, ঘুম থেকে উঠে, ঘরে প্রবেশ করে মিসওয়াক করুন। দুনিয়াতে সুস্থতা, আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি, দুটোই পাবেন ইনশাআল্লাহ। জীবনের শেষ মুহূর্তেও যে সুন্নাহ ছাড়তে পারেননি, সেই সুন্নাহকে আমরা কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছি?