পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে নতুন বহির্গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে নক্ষত্রজগতের তৃতীয় একটি গ্রহের সন্ধান পান।
১৫ জুলাই মহাকাশ গবেষণায় নতুন এ সাফল্যের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
.png)
নতুন এই গ্রহটির নাম দেয়া হয়েছে বিটা পিক্টোরিস ডি। এটি বিটা পিক্টোরিস নামের একটি তরুণ নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এর আগে ওই নক্ষত্রজগতে আরও দুটি বড় গ্রহের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। নতুন গ্রহটি যুক্ত হওয়ায় এই নক্ষত্রজগতটি এখন মহাকাশ গবেষণায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নাসার গবেষকরা জানিয়েছেন, এই আবিষ্কার গ্রহ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের শক্তিশালী ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রহটির অবস্থান, আকার ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
গবেষকরা জানান, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফ প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে। সাধারণভাবে উজ্জ্বল আলোর মাধ্যমে নয়, বরং বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেই গ্রহটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার গ্রহ কীভাবে তৈরি হয় এবং তরুণ নক্ষত্রজগতের বিবর্তন কীভাবে ঘটে—তা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিটা পিক্টোরিস নক্ষত্রজগত তুলনামূলকভাবে তরুণ হওয়ায় এটি গ্রহ তৈরির প্রাথমিক ধাপ পর্যবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
এর আগে নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ এবং ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট হাজার হাজার বহির্গ্রহ শনাক্ত করেছে। এসব গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আমাদের সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহগুলোর বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন।

এ ছাড়া ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএ-এর গাইয়া মিশন কোটি কোটি নক্ষত্রের অবস্থান ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। এসব তথ্য মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন ধারণা দিচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন এই গ্রহ নিয়ে আরও গবেষণা ভবিষ্যতে দূরের গ্রহগুলোর পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা বাড়াবে। তবে এখন পর্যন্ত বিটা পিক্টোরিস ডি গ্রহে প্রাণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মহাকাশের অজানা রহস্য উন্মোচনে আধুনিক টেলিস্কোপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মতো প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য সামনে আনবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।