পৃথিবীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৬ লাখ বজ্রপাত ঘটে। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রায় ১০০টি বজ্রপাত হচ্ছে। নাসা, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।
নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বজ্রপাতবিষয়ক বিজ্ঞানী রিচার্ড জে. ব্লেকসলি এবং তার সহকর্মীরা লাইটনিং ইমেজিং সেন্সর (এলআইএস) নামে বজ্রপাত শনাক্তকারী একটি স্যাটেলাইটভিত্তিক যন্ত্র ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতের বিস্তার, ঘনত্ব ও প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। তাদের গবেষণা বজ্রপাত পর্যবেক্ষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
.png)
এদিকে বজ্রপাতের বৈশ্বিক বিস্তৃতি নিয়ে গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানী মাইকেল জে. পিটারসন। তার গবেষণায় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে কোথায় কত বেশি বজ্রপাত হয়, তার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে বায়ুমণ্ডল ও তীব্র বজ্রঝড় নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন মার্কিন বায়ুমণ্ডলবিজ্ঞানী ওয়াল্ট লাইন্স। তার গবেষণায় বজ্রপাত, বজ্রঝড় এবং বায়ুমণ্ডলের বিরল বৈদ্যুতিক ঘটনার পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। এসব গবেষণা বজ্রপাত সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত মূলত মেঘের মধ্যে অথবা মেঘ ও ভূমির মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের ভারসাম্যহীনতার কারণে সৃষ্টি হয়। চার্জের পার্থক্য নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করলে মুহূর্তের মধ্যেই শক্তিশালী বৈদ্যুতিক নির্গমন ঘটে, যা বজ্রপাত হিসেবে দেখা যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর অঞ্চলগুলোতে বজ্রপাতের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। আফ্রিকার কঙ্গো অববাহিকা, ভেনেজুয়েলার লেক মারাকাইবো এবং দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চল বজ্রপাতের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বাংলাদেশও বজ্রপাতপ্রবণ দেশগুলোর একটি।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে বজ্রপাতের ধরন ও তীব্রতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাই বজ্রপাতের সঠিক পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কবার্তা উন্নত করতে স্যাটেলাইটভিত্তিক গবেষণা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছ, জলাশয় ও ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা মেনে চললে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক স্যাটেলাইট এবং উন্নত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যতে বজ্রপাতের পূর্বাভাস আরও নির্ভুল হবে। এতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সহজ হবে।