আফ্রিকার কঙ্গো অববাহিকার ঘন রেইনফরেস্টে নতুন এক বানর প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এই প্রজাতির নাম দেওয়া হয়েছে কোলোবাস কঙ্গোয়েনসিস। স্থানীয়ভাবে এটি ‘লিকওয়েলি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
গবেষকদের দাবি, গত ৭৫ বছরে আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া এটি মাত্র পঞ্চম নতুন বানর প্রজাতি। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমেট আবিষ্কার হিসেবে বিষয়টিকে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।
.png)
সম্প্রতি গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘প্লস ওয়ান’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কঙ্গো এবং জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা অংশ নেন।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, লিকওয়েলির শরীর কালো রঙের। মুখ ও নাকের চারপাশে কমলা-ক্রিম রঙের দাগ রয়েছে, যা এটিকে অন্যান্য কোলোবাস বানর থেকে আলাদা করেছে। এ ছাড়া এর ডাক, শারীরিক গঠন এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যও অন্য প্রজাতির তুলনায় ভিন্ন।
গবেষণা দলের সদস্য ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জুলিয়া অ্যারেনসন বলেন, শারীরিক গঠন, জিনগত বিশ্লেষণ এবং স্বরধ্বনির তথ্য—সবকিছুই প্রমাণ করে লিকওয়েলি একটি স্বতন্ত্র বানর প্রজাতি।
বিজ্ঞানীদের মতে, লোমামি জাতীয় উদ্যানের দুর্গম বনাঞ্চলে বসবাস করায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রজাতিটি গবেষকদের নজরের বাইরে ছিল। প্রথমবার ২০০৮ সালে একটি অভিযানে প্রাণীটির ছবি তোলা হয়। পরে ২০১৮ সালে আবার দেখা পাওয়ার পর বিস্তারিত গবেষণা শুরু হয়। কয়েক বছরের মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, জিনগত বিশ্লেষণ এবং স্বরধ্বনি পরীক্ষা শেষে এটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, লিকওয়েলির বিস্তৃতি খুবই সীমিত। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস এবং শিকারের কারণে প্রজাতিটি ইতোমধ্যে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই একে ‘বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন তারা।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু নতুন একটি প্রাণী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা নয়, বরং কঙ্গো অববাহিকার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তাদের বিশ্বাস, বিশ্বের দুর্গম বনাঞ্চলে এখনো অনেক অজানা প্রাণী মানুষের চোখের আড়ালে রয়ে গেছে।