ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ লাইফস্টাইল ]
আন্তর্জাতিক বইপ্রেমী দিবস আজ

একেকটি বই একেকটি জীবন্ত কণ্ঠস্বর

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:০৬, ৯ আগস্ট ২০২৬
একেকটি বই একেকটি জীবন্ত কণ্ঠস্বর
মূলত বইয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সাধারণ মানুষ ও লাইব্রেরিগুলো এই দিনটিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে এটি একটি বৈশ্বিক উদযাপনে রূপ নিয়েছে, যেখানে মানুষ স্ক্রিন থেকে দূরে সরে এসে নতুন ও পুরোনো বইয়ের পাতায় নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেয়।

বই হচ্ছে জ্ঞানের দলিল।  মানবজীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার সংরক্ষণাগার হচ্ছে বই। বইয়ের সঙ্গে মানুষের নিত্য কথা হয়। একেকটি বই একেকটি জীবন্ত কণ্ঠস্বর।  বই পড়ার সাথে জ্ঞানের সম্পর্ক অপরিসীম। বই পড়লে মানুষের জ্ঞানের দ্যুতি বাড়ে। মানুষের ইতিহাস জ্ঞানের ইতিহাস। জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়েই মানুষ মানুষ হয়ে উঠেছে। 

আজ ৯ আগস্ট পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বা জাতীয় বইপ্রেমী দিবস (Book Lovers Day)। বিশ্বজুড়ে বইয়ের প্রতি মানুষের এই অগাধ প্রেম আর গভীর অনুরাগকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর আগস্ট মাসের নয় তারিখে উদ্যাপিত হয় বিশ্ব বইপ্রেমী দিবস।  এটি মূলত একটি অনানুষ্ঠানিক উৎসব। আধুনিক ডিজিটাল যুগে স্ক্রিন বা পর্দার অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে মানুষকে কিছুটা দূরে সরিয়ে বই পড়ার আনন্দ উপভোগ করতে এবং পাঠাভ্যাসকে পুনরায় চাঙ্গা করতে দিবসটি উদযাপিত হয়।

কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সরকারি ঘোষণা বা আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি ছাড়াই মূলত বইয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সাধারণ মানুষ ও লাইব্রেরিগুলো এই দিনটিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে এটি একটি বৈশ্বিক উদযাপনে রূপ নিয়েছে, যেখানে মানুষ স্ক্রিন থেকে দূরে সরে এসে নতুন ও পুরোনো বইয়ের পাতায় নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেয়।

Advertisement

Page 2 | Student reading a book Images - Free Download on Magnific  (formerly Freepik)

দিবসটির মূল লক্ষ্য ও তাৎপর্য হিসেবে ধরা হয়েছে—

পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা: 
সমাজের প্রতিটি স্তরে বই পড়ার মানসিকতা এবং জ্ঞানার্জনের আগ্রহ বৃদ্ধি করা।

বইয়ের দোকান ও লাইব্রেরির সান্নিধ্য: 
স্থানীয় বইয়ের দোকান বা লাইব্রেরিগুলোতে গিয়ে নতুন বই খোঁজার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা।

 মানসিক প্রশান্তি: 
কর্মব্যস্ত জীবনের মানসিক চাপ ও ক্লান্তি দূর করতে সাহিত্য, কবিতা ও উপন্যাসের কাল্পনিক বা বাস্তব জগতে কিছু সময় ডুবে থাকা।

Page 3 | Woman reading book a library Images - Free Download on Magnific  (formerly Freepik)

যেভাবে আমরা দিবসটি পালন করা যেতে পারে-

শান্ত পরিবেশে পাঠ: 
নিজের পছন্দের কোনো কোলাহলমুক্ত ও শান্ত জায়গায় বসে পুরো দিনটি প্রিয় কোনো বইয়ের সাথে কাটিয়ে দেওয়া।

বই বিনিময় উৎসব: 
বন্ধু, স্বজন বা সহপাঠীদের নিয়ে ছোট পরিসরে 'বই বিনিময়' (Book Swap) উৎসব আয়োজন করা, যাতে একে অপরের বই পড়ার সুযোগ ঘটে।

 বইয়ের ভুবন ঘুরে দেখা: 
স্থানীয় লাইব্রেরি বা কোনো ঐতিহ্যবাহী বইয়ের দোকান ঘুরে নতুন লেখকের বইয়ের সন্ধান করা।

অনেকেই এই দিনটিকে নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। উল্লেখ্য যে, প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল ইউনেস্কোর উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক 'বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস' পালিত হয়, যা ৯ আগস্টের অনানুষ্ঠানিক 'বইপ্রেমী দিবস' থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

বই পড়ার এই আনন্দকে ছড়িয়ে দিতে এবং পাঠকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই দিনটির সুনির্দিষ্ট ইতিহাস বা এর সূচনার পেছনে কে বা কারা ছিলেন, তার কোনো নিখুঁত বা সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক দালিলিক প্রমাণ নেই।

দিনটির ইতিহাস সম্পর্কে যা জানা যায়—
বিশ্বব্যাপী বইপ্রেমী ও পাঠকদের অনেকেই মনে করেন যে, সাহিত্য এবং পড়ার প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে কোনো একক ব্যক্তি বা সাহিত্যপ্রেমী গোষ্ঠী এই দিনটি উদযাপনের প্রচলন করেছিলেন। এর সঠিক সাল বা সূচনার দিনটি ইতিহাসে স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত নেই।

বর্তমান যুগে প্রযুক্তি, স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের আধিপত্যের কারণে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস যখন কিছুটা কমে যেতে শুরু করে, তখন এই বিশেষ দিনটির প্রয়োজনীয়তা ও জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!