এমন সময় তিনি দেখলেন, এক যুবক তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে।
তিনি যুবকটিকে ডেকে বললেন, বাবা, আমি একজন মুসাফির। নামাজের সময় হয়েছে। তুমি কি আমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমার ঘোড়া ও মালপত্রের দেখাশোনা করবে?
যুবক বলল, অবশ্যই। আপনি নিশ্চিন্তে নামাজ পড়ুন। আমি এখানেই আছি।
.png)
লোকটি খুশি মনে মসজিদে প্রবেশ করলেন। নামাজ শেষে বাইরে এসে তিনি হতবাক হয়ে গেলেন।
যুবক নেই! আর ঘোড়ার পিঠে বাঁধা দামি আসনটিও নেই!
তিনি আফসোস করলেন, কিন্তু ধৈর্য ধরলেন। ভাবলেন, বাজারে গিয়ে নতুন একটি আসন কিনে নেবেন।
বাজারে একটি দোকানে গিয়ে তাঁর চোখ আটকে গেল। দেখলেন, তাঁর সেই হারিয়ে যাওয়া দামি আসনটিই দোকানে ঝুলছে!
তিনি দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলেন, “এই আসনটি কোথা থেকে পেয়েছ?”
দোকানদার বলল,কিছুক্ষণ আগে এক যুবক এটি মাত্র দুই দিরহামে বিক্রি করে গেছে।
এ কথা শুনে লোকটি আক্ষেপ করে বললেন,হায়! ছেলেটি যদি একটু ধৈর্য ধরত!
দোকানদার অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইল।
তখন তিনি পুরো ঘটনা বর্ণনা করে বলেন,
“আমি নামাজে দাঁড়িয়ে ঠিক করেছিলাম, নামাজ শেষে ওই ছেলেটিকে তার সততার পুরস্কার হিসেবে দুই দিরহাম দেব।
কিন্তু সে ধৈর্য ধরতে পারল না। ফলে যে দুই দিরহাম হালালভাবে পেতে পারত, সেটিই সে হারাম পথে অর্জন করল।”
এক বুযুর্গ বলেন,
রিজিকের পরিমাণ আল্লাহ আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। কিন্তু একটি বিষয় তোমার হাতে - সেটি হলো, তুমি সেই রিজিক হালাল পথে অর্জন করবে, নাকি হারাম পথে।
অনেক মানুষ অস্থিরতার কারণে এমন দরজা ভেঙে ঢুকতে চায়, যেটি আল্লাহ একটু পরেই তার জন্য বৈধভাবে খুলে দিতেন। যে হারামের দিকে হাত বাড়ায়, সে নিজের বরকত কমিয়ে ফেলে।
মনে রেখো, যা তোমার নসিবে আছে, তা কখনো তোমাকে ছেড়ে যাবে না। আর যা তোমার জন্য লেখা নেই, তা পৃথিবীর সব চেষ্টা করেও তুমি পাবে না।
সূত্র : Salman Farsi পেজ, মেসালী ওয়াকেয়াত