ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ লাইফস্টাইল ]
সেলফি ম্যানিয়া : 

শারীরিক অসুস্থতা বাড়ে সেলফি আসক্তিতে!

মেহেবুবা ওয়ারিশা
প্রকাশিত: ১০:৪৩, ২০ আগস্ট ২০২৬
শারীরিক অসুস্থতা বাড়ে সেলফি আসক্তিতে!
যে মানুষ যত বেশি সোশাল মিডিয়ায় আসক্ত; তার দুর্বলতা, হতাশা ইত্যাদি তত বেশি। এমনকি, অন্য বন্ধুরা দূরে বেড়াতে গেলে কেন আমাকে বাড়ির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা নিয়েও চলছে মা-বাবার সঙ্গে বাকবিতন্ডা। বলা যায়, সোশাল মিডিয়া পরিবারেও বয়ে আনছে নানান সমস্যা।

সেলফি তুলে সোশাল মিডিয়ায় যারা নিজেদের ছবি পোস্ট করতে অভ্যস্ত, নিজের অজান্তেই তাদের মনে জন্ম নেয় চেহারা নিয়ে সচেতনতা। ছবিতে নিজেকে ‘সুন্দর’ দেখানোর প্রতিযোগিতা, লাইক কিংবা কমেন্টসের ক্ষুধা তাদের অভ্যস্ত করে তোলে ভুল ডায়েট ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে। যে কারণে প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ, পুষ্টিগুণ কিছুই পায় না শরীর। ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের স্কুল অব মেডিসিনের গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

* সেলফিতে বাড়ছে উদ্বেগ। সেলফি তোলার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা, সেখানে বারবার কমেন্ট ও লাইক   দেখা-সবকিছুই এই উদ্বেগের অংশ।
* আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে মানুষ। সেলফি তোলা ও সেটি পোস্ট করতে এত মনোযোগ দিচ্ছে তারা, যে আশেপাশের সবার সঙ্গে  সুন্দর সময় কাটানো দুরূহ হয়ে পড়ছে তাদের জন্য।
* সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা না পেলে কমছে আত্মবিশ্বাস।
* অন্যের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা বাড়ছে, যা বাড়াচ্ছে অবসাদ।

THE SELFIE MANIA – CANDLES
দুই ধরনের মানুষকে নিয়ে এই গবেষণা চালানো হয়। দেখা যায়, যারা নিয়মিত সোশাল মিডিয়ায় নিজেদের ছবি পোস্ট করেন ও তার প্রতিক্রিয়া দেখতে উদগ্রীব হন, তারাই সব চেয়ে ভুল ডায়েটে থাকেন এবং অন্যদের চেয়ে ২.৬ গুণ শারীরিক ক্ষতির শিকার হন।

এমনই এক সমীক্ষা চালান লস অ্যাঞ্জেলসে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফর্নিয়ার ব্রেন ম্যাপিং সেন্টার। তাদের পরীক্ষায় দেখা যায়, এই স্বভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে বয়ঃসন্ধির কিশোর-কিশোরীরা। সোশাল মিডিয়ায় নিজেদের ছবি পোস্ট করার সময় এবং এর প্রতিক্রিয়া কেমন হলো- তা দেখার যে মানসিকতা; তাতে মস্তিষ্কের থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাসকে উত্তেজিত করে। ডোপামিন জাতীয় নানা নিউরো ট্রান্সমিটারের রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে ব্রেন রিওয়ার্ড সেন্টার উদ্দীপ্ত হয়। সোশাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সক্রিয়তা এই রাসায়নিক বিক্রিয়াকে বাড়িয়ে দেয়। যা আবেগতাড়িতভাবেও ক্ষতি করে মানুষের।

Advertisement

সমীক্ষা বলছে, যারা যত বেশি সোশাল মিডিয়ায় আসক্ত; তাদের দুর্বলতা, হতাশাটাও বেশি থাকে। মনোবিদদের মতে, প্রতিদিন এমন অনেক রোগী আসেন, যাদের হতাশার মূল কারণ এই সোশাল মিডিয়া। তারা বলছেন, এমনিতেই সোশাল মিডিয়ায় কেউ পুঁইডাটার চচ্চড়ি খাওয়ার বা বাড়ির পাশের খালের ধার ধরে হাঁটার ছবি সচরাচর দেন না। 

50+ Couple Taking Selfie Photo With Mobile Phone Man Tired Stock Photos,  Pictures & Royalty-Free Images - iStock

সবাই দেখাতে চান ‘আমি কত ভালো আছি’। 

আর আমার চেয়ে অন্যরা বেশি ভালো আছে, বেশি রোগা দেখাচ্ছে তাদেরÍএমন ভাবনা প্রবণতা এমনিতেই মানুষের যথেষ্ট। তার মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় চটজলদি ফলাফল দেখলে মনে মনে সে আরো বিখ্যাত ভাবে নিজেকে। এই ভাবনা থেকেই ভুল ডায়েট, অস্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যস্ত হচ্ছেন তারা। 

দেখা যাচ্ছে, যে মানুষ যত বেশি সোশাল মিডিয়ায় আসক্ত; তার দুর্বলতা, হতাশা ইত্যাদি তত বেশি। এমনকি, অন্য বন্ধুরা দূরে বেড়াতে গেলে কেন আমাকে বাড়ির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা নিয়েও চলছে মা-বাবার সঙ্গে বাকবিতন্ডা। বলা যায়, সোশাল মিডিয়া পরিবারেও বয়ে আনছে নানান সমস্যা।

সূত্র : নিউজ এইটিন, আনন্দবাজার

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!