নিজের প্রয়োজনে মনের মতো করে জীবনকে সাজিয়ে তুলতে, মনের আলোয় জীবনের ক্যানভাসকে রাঙিয়ে তুলতে মেনে চলতে হয় কিছু নিয়ম বা কায়দা-কানুন।
১. সত্য ও সুন্দরের পথ চির অবিনশ্বর। সততার সাথে প্রতিটি কাজ করার চেষ্টা করুন, সাফল্য আপনার হাতের মুঠোয় ধরা দেবে নিশ্চিত।
ক) যতটা সম্ভব মিথ্যাকে এড়িয়ে চলুন।
খ) সত্য কথা বলার অভ্যাস আপনাকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।
গ) পরোক্ষভাবে এর প্রভাবে আপনার শরীরেরও উপকার হবে।
.png)
২. জীবন কোনো নিরস বিষয় নয়, জীবনটাকে মজার ও আনন্দময় করে তুলুন। তবে উশৃঙ্খল উন্মাদনার নাম আনন্দ নয়।
ক) অর্থবহ ইতিবাচক আনন্দমুরখায় জীবনকে সাজাতে চেষ্টা করুন।
খ) প্রতিদিন নতুন কিছু শিখুন, জানুন এবং নতুন কিছু করুন।
গ) সাহিত্য, চিত্রকর্ম, সংস্কৃতি ইত্যাদি যেকোনো শাখায় ছড়িয়ে আছে অনেক কিছু।
ঘ) তাতেও উৎসাহ না পেলে তবে অনলাইন জগৎ থেকে অজানা বিষয় শিখুন, জানুন, নিজে করুন।

৩. প্রকৃতি মানুষের অকৃত্রিম ও নির্মল বন্ধু। প্রকৃতির কাছে যান। চলে যান নদীর কাছে, পাহাড়েরর কাছে অথবা গাছের কাছে। হাতের কাছে এসব নেই। তো কি হয়েছে- খুঁজে নিন বাগান, খোলা জায়গা, সবুজ প্রান্তর। দেখুন জীবনটাকে আকর্ষণীয় ও অর্থবহ মনে হবে।
৪. সবকিছু হাতের কাছেই। সূর্যের আলো, নির্মল বায়ু এবং সুগন্ধি আপনাকে দেবে স্নায়ুবিক প্রশান্তি। বন্ধ ঘরে ঘোমট হাওয়ায় মন-শরীর কোনোটাই ভালো থাকেনা।
ক) খোলামেলা জায়গায় সময় কাটান।
খ) পছন্দের সুগন্ধি ব্যবহার করুন।
গ) গায়ে মাঝে-মধ্যে সূর্যের আলো লাগান। দেখবেন আগের চেয়ে অনেক বেশি আপনার কাজের গতি ও উদ্যম বেড়ে গেছে।
৫. একাকীত্ব আর একঘেয়েমি কাটাতে সপ্তাহে অন্তত একবার বন্ধু-বান্ধব বা প্রিয়জনদের সাথে কিছুটা সময় কাটান। নিজের সুখ-দুঃখ আর অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে ভালো লাগবে। কখনোবা আড্ডা-আলোচনায় অনেকের সুখময়, স্বপ্নময় অথবা দুঃখ-দুর্দশার কাহিনী শুনে নিজের দুঃখবোধ উবে যায়। খুঁজে পাওয়া যায় নতুন জীবনের দিশা। মানসিক চাপমুক্তির পাশপাশি এতে শরীর ঝরঝরে মনে হয়। কেটে যায় ক্লান্তি।
৬. প্রতি সপ্তাহে অন্তত শুধুমাত্র ফলমূল ও বাদাম দিয়ে নাশতা করুন। আপনার ত্বক হবে ঝলমরে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঘড়ির কাঁটার মতো হয়ে উঠবে কর্মক্ষম। আপনি নিজেকে দীর্ঘ সময় সতেজ-সবল অনুভব করবেন।
৭. দিনের কাজগুলো রাতে ঘুমে যাবার আগে মনে মনে ঠিক করে নিন। পারলে নোট করুন।
ক) দেখবেন সকাল থেকেই পরিকল্পনা মতো কাজ হচ্ছে।
খ) মনটাও ফুরফুরে লাগবে। কাজে গতি পাবেন, অনুপ্রেরণা পাবেন।

৮. কখনো সময় আসে কারণে-অকারণে মনটা বিক্ষিপ্ত ও উদাস হয়ে যায়। কোনো কিছুই ভালো লাগেনা। কোনো কাজেই মন বসে না। এমন ক্ষেত্রে -
ক) খুঁজে নিন আপনার আত্মায় প্রশান্তির খোড়াক। আপনি যেমন পছন্দের গান শোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, তেমনি শুনতে পারেন গজল, গীত, তেলাওয়াত, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি। যেটিতে আপনি অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন তাই করুন।
খ) মনের সায় নিন। আপনার মন আসলে কোনটি চায়। ঠিক সেট্ইি করুন।
গ) দুশ্চিন্তা, ভাবনা আর বিষাদের জগৎ থেকে হারিয়ে যেতে চেষ্টা করুন অন্য ভুবনে।
৯. প্রতিদিন দুই থেকে তিনকাপ ফুটানো পানি যতটা সম্ভব গরম থাকা অবস্থায় পান করুন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপর এককাপ, রাতে ঘুমোতে যাবার আগে এককাপ এবং দিনের অন্য যেকোনো সময়ে এককাপ গরম পানি পানের অভ্যাস করুন। এতে আপনার ত্বক থাকবে মসৃণ, কোমল ও দাগমুক্ত। ভালো হয়ে যাবে কোষ্ঠকাঠিন।
১০. মেডিটেশন আত্মোন্নয়নের এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখার কার্যকর কৌশল। মেডিটেশনের উপকার অনেক। মেডিটেশন অবলম্বনে কর্মক্ষেত্রে যেমন দক্ষ ও সুশৃঙ্খল হয়ে ওঠা সম্ভব। পাশাপাশি দুশ্চিন্তা থেকেও নিজেকে মুক্ত রাখা যায়। তাই-
ক) শিখে নিন মেডিটেশনের কৌশল। মেডিটেশনের বই পাওয়া যায়। পাওয়া যায় সিডি।
খ) কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে বা অন্য কো যোগ-ব্যায়াম কেন্দ্রেও যেতে পারেন।
গ) এর মাধ্যমে ধূমপান বা অন্য যেকোনো বদভ্যাস এবং আসক্তি থেকে সহজেই আপনি নিজেকে মুক্ত করতে বা রাখতে পারবেন।
১১. শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিপাক ও পুষ্টিসাধনের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্যও বসে খাবার খাওয়া বিজ্ঞান সম্মত। সুতরাং যখন যা কিছু খান না কেনো অবশ্যই বসে খাবেন। এমনকি খাবারের ধরন ফাস্টফুড হলেও কোথাও বসে খান।