মুসলিমদের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ ঈদে মিলাদুন্নবী। হিজরি বর্ষের ১২ রবিউল আউয়াল বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি স্মরণ করা হয়।
‘মিলাদুন্নবী’ বলতে মহানবী (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ ও তাঁর জীবন নিয়ে আলোচনা বোঝানো হয়। মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি মানবজাতির জন্য আল্লাহর প্রেরিত শেষ নবী। তাঁর জীবন ও চরিত্রে ন্যায়বিচার, সততা, ক্ষমাশীলতা, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা রয়েছে, যা মুসলিমদের কাছে অনুসরণীয় আদর্শ।
.png)
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নবুয়তপ্রাপ্তির পর তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ন্যায়, সততা ও মানবিকতার পথে আহ্বান জানান। তাঁর জীবন ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করে।
তাই ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মুসলিমরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা স্মরণ করেন। মানুষের প্রতি দয়া, ক্ষমা, ন্যায়বিচার এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নানা ধর্মীয় আয়োজন করা হয়। অনেকে কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, মিলাদ মাহফিল, সিরাত আলোচনা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেন।
মসজিদ, মাদরাসা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাঁর ন্যায়বোধ, ক্ষমাশীলতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুস বা ধর্মীয় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা দরুদ ও নাত পাঠের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বড় পরিসরে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে অনেকেই অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন। বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল শেষে তবারক, মিষ্টি ও খাবার বিতরণের আয়োজন থাকে।
এ ছাড়া অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দরিদ্র, এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। এর মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর দয়া, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা স্মরণ করা হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও চরিত্র থেকে শিক্ষা নেওয়াকেও দিনটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সততা, ন্যায়বিচার, ধৈর্য, ক্ষমা, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং সবার সঙ্গে ভালো আচরণ—তাঁর জীবন থেকে পাওয়া এসব শিক্ষা এ দিনে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি, মানবিকতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার বার্তা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দিনটি স্মরণ করেন মুসলিমরা।
তবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের ধরন নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ মিলাদ, জশনে জুলুসসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন, আবার কেউ আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা অধ্যয়ন এবং ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করেন।
তবে সব ক্ষেত্রেই মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও আদর্শই ঈদে মিলাদুন্নবীর আলোচনার প্রধান বিষয়।