ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় সংস্কারকাজ চলার সময় একটি পুরোনো ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ভবনটির বেসমেন্টে মেরামতের কাজ চলছিল। এ সময় একটি মূল পিলারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সেটি ভেঙে পড়ে। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবনটি ধসে পড়ে।
.png)
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বেসমেন্টে পানি জমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরোনো ভবনে সংস্কারকাজ চলায় কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল। এতে বেসমেন্টের পিলার দুর্বল হয়ে ভবনটি ধসে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে কয়েক দিন ধরে ভবনটির বেসমেন্টে পানি জমে ছিল। এতে ভবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে বলে তাদের ধারণা।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সোমবার জানান, বেসমেন্টে জমে থাকা পানি এবং পুরোনো অবকাঠামোয় চলমান সংস্কারকাজের সম্মিলিত প্রভাবেই দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন এবং বাকি ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার পর জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজও চলছে।
দিল্লির মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ধসে পড়া ভবনের পাশের আরও একটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ শেষ হলে ওই ভবনটিও ভেঙে ফেলা হবে।
মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অব দিল্লির (এমসিডি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ধসে পড়া ভবনটিতে একটি ছেলেদের হোস্টেল ছিল। ভবনটি ছিল জি+৪ কাঠামোর। প্রায় ৫৫ বর্গগজ জমির ওপর নির্মিত ভবনটির নিচতলাসহ মোট পাঁচটি স্তর ছিল।
কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসন কলোনির ওই জমিতে মূলত জি+১ ভবন নির্মাণের অনুমতি ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভবনটি পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। ভবনটির বয়স নিয়েও বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে; স্থানীয়ভাবে এটি প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো বলে দাবি করা হলেও এমসিডির তথ্য অনুযায়ী কাঠামোটির বয়স প্রায় ৩০ বছর।