চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসে করা ১ হাজার ১২০টি মামলার মধ্যে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩২৮টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ৩১৩টি, ভ্যান ও রিকশার বিরুদ্ধে ২০৫টি, ইজিবাইকের বিরুদ্ধে ১৪৮টি, পিকআপের বিরুদ্ধে ৫০টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ৩৭টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ১৯টি, বাসের বিরুদ্ধে ১০টি, প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে ৭টি এবং মাইক্রোবাসের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা করা হয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ জানায়, আগস্ট মাসের অভিযানে ১২২টি যানবাহন আটক করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন অভিযানে আটক করা আরও ২১৯টি যানবাহনসহ বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে মোট ৩৪১টি যানবাহন রয়েছে।
.png)
লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, হেলমেট ব্যবহার না করা, ফিটনেস ও নিবন্ধনসংক্রান্ত অনিয়ম, অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে এসব মামলা করা হয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, নতুন বাজার-পুরান বাজার সেতুর গোড়া, শপথ চত্বর, বাসস্ট্যান্ড, ওয়্যারলেস ও বাবুরহাটসহ ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই-অ্যাডমিন) প্রবীর কুমার দাশ বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিরসন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা কমানো। যারা ট্রাফিক আইন অমান্য করবেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন চালাবেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে নামাবেন কিংবা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান।’
টিআই-অ্যাডমিন আরও বলেন, জরিমানা আদায় ট্রাফিক পুলিশের মূল উদ্দেশ্য নয়। মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চালক ও পথচারী সবাই সচেতন হলে দুর্ঘটনা কমবে এবং যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।