ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

মরিয়ম ফুলের যত ওষুধি গুণ 

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:০৮, ২৮ মার্চ ২০২২
মরিয়ম ফুলের যত ওষুধি গুণ 
মরিয়ম ফুল। ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম এমন এক জীবন ব্যবস্থা যা মানুষের মেজাজ মর্জির সঙ্গে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলাম তার অনুসারীদেরকে এমন কোনো কিছু করতে বলে না, যা তার মানবিয় প্রকৃতির বিরুদ্ধে যায়।

‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ২৮৬)।

তাই নিষিদ্ধ, গর্হিত ও শিরক হয় এমন সব পদ্ধতি ব্যতীত বৈধ পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করায় কোনো বাধা-নিষেধ নেই। সুতরাং ডাক্তারি পরামর্শের ভিত্তিতে চিকিৎসা হিসেবে ‘মরিয়ম ফুল’ ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এর ধর্মীয় বিশেষ কোনো তাৎপর্যে বিশ্বাস করা যাবে না।

Advertisement

চলুন জেনে নেয়া যাক ‘মরিয়ম ফুল’ সম্পর্কে বিস্তারিত-

‘মরিয়ম ফুল’ সম্পর্কে সমাজে অনেক ভ্রান্ত বিশ্বাস চালু আছে। অনেকে হজ করতে গিয়ে এই ফুল কিনে নিয়ে আসেন এবং এর পানি দ্বারা উপকার গ্রহণ করে থাকেন। অনেকে মনে করেন, মরিয়ম ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে পানি পান করলে প্রসবকালীন ব্যথা লাঘব হয় এবং সহজে প্রসব হয়। আবার কারো কারো বিশ্বাস, এই ফুল শুঁকেই নাকি মারইয়াম (আ.) গর্ভে সন্তান লাভ করেছিলেন।

আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী এটিকে ‘প্রফেটিক মেডিসিন’ তথা নবী (সা.) নির্দেশিত ওষুধ হিসেবেও প্রচার করে থাকেন।

আরো পড়ুন: হাদিসের বর্ণনায় আজওয়া খেজুরের যত উপকারিতা

এ ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

ইসলামি শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। কোরআন ও হাদিস দ্বারা এর কোনো গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রমাণিত নয়। উপরোল্লিখিত কথাবার্তা পুরোপুরিই আজগুবি, সামাজিক কুসংস্কার মাত্র।

তবে হ্যাঁ, ভেষজ উদ্ভিদীয় চিকিৎসা হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায়। এটি শারীরিক চিকিৎসার বিষয়, যা ওহির ওপর নির্ভর করে না। বরং পরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা যায়। সুতরাং ওষুধি গাছ হিসেবে চিকিৎসার জন্য এই ফুল থেকে উপকার গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু এর ধর্মীয় বিশেষ কোনো ‘ফজিলত’ বা তাৎপর্য আছে বলে বিশ্বাস করা যাবে না।

মরিয়ম ফুলের পরিচিতি 

মরিয়ম ফুল জন্মে মরু অঞ্চলে। মধ্যপ্রাচ্য ও সাহারার বিস্তীর্ণ মরু অঞ্চলে বছরের পর বছর শুকনো গাছ মাটি আঁকড়ে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Anastatica hierochuntica। মরুভূমির অসহনীয় গরমের মধ্যে থাকা শুকনো এই গাছ ক্রমে নির্জীব পাথরের মতো হয়ে পড়ে। কখনো বৃষ্টির পরশ পেলে জীবন ফিরে পায় এবং এর বংশ বিস্তার ঘটে। এই গাছের ফুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, দস্তা এবং লোহা। বিশেষত, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম একসঙ্গে পেশি সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। এর কোনো নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।

অতএব, অনুরূপ যে কোনো গাছ, পাতা, ফুল ইত্যাদি অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!