আল্লাহ প্রদত্ত সুস্বাদু খাবার দুধ
দুধ হল স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্তন্যগ্রন্থি থেকে উৎপন্ন অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এক প্রকার সাদা তরল পদার্থ এবং দুধ মানুষের একটি প্রধান খাদ্য। অন্যান্য খাদ্যগ্রহণে সক্ষম হয়ে ওঠার আগে এটিই হল স্তন্যপায়ী (মানুষসহ যারা স্তন্যদুগ্ধপানকারী) শাবকদের পুষ্টির প্রধান উৎস।
দুধ ভিটামিন ডির ভালো একটি উৎস। ভিটামিন ডি হাড়, দাঁত, চুল, নখ ও ত্বকে পুষ্টি জোগায়। দুধের সবচেয়ে উপকারী দিক হলো এর ক্যালসিয়াম। মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য এর ভূমিকা অনবদ্য। আমাদের চলাফেরায় তাই দুধের ভূমিকা অনন্য। সব বয়সের মানুষের জন্য চাই দুধ। সব ধরনের পুষ্টি উপাদানই আমরা দুধ থেকে পেতে পারি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, একজন মানুষকে গড়ে দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করতে হবে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই গবাদি পশুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। তাদের উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে তোমাদের পান করাই বিশুদ্ধ দুধ, যা পানকারীর জন্য সুস্বাদু। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৬)
শুধু দুনিয়াতেই নয়, মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য জান্নাতেও বিশুদ্ধ দুধের ব্যবস্থা রেখেছেন।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুত্তাকিদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তার উপমা হলো; তাতে আছে নির্মল পানির ঝরনা, আর আছে দুধের নদী, যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নদী আর পরিশোধিত মধুর নদী। তাদের জন্য সেখানে আছে সব রকম ফলমূল আর তাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে ক্ষমা। (এরা কি) তাদের মতো, যারা চিরকাল থাকবে জাহান্নামে যাদেরকে পান করতে দেওয়া হবে গরম পানীয়, যা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে?’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১৫)
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, একবার আমি নিদ্রাবস্থায় ছিলাম। তখন (স্বপ্নে) আমার কাছে এক পেয়ালা দুধ নিয়ে আসা হলো। আমি তা পান করলাম। এমনকি আমার মনে হতে লাগল যে সে পরিতৃপ্তি আমার নখ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। অতঃপর অবশিষ্টাংশ আমি ওমর (রা.)-কে দিলাম। সাহাবিরা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এ স্বপ্নের কী ব্যাখ্যা করেন? তিনি জবাবে বলেন, তা হলো ইলম (জ্ঞান)। (বুখারি, হাদিস : ৮২)