ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বিজ্ঞান বিস্ময় ]

এ দিনেই দেখা মেলে হ্যালির ধূমকেতুর

বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ২৪ এপ্রিল ২০২২
এ দিনেই দেখা মেলে হ্যালির ধূমকেতুর
আকাশে হ্যালির ধূমকেতু। ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে। যার নাম ধূমকেতু। হয়েতো অনেকেই শুনেছেন, কেউবা দেখেছেন। হ্যালির ধূমকেতু হলো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধূমকেতু। ১০৬১ সালের এই দিনে (২৪ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের আকাশে হ্যালির ধূমকেতু প্রথম দেখা যায়। 

ব্যাবিলন, চীন এবং ইউরোপের পর্যবেক্ষকরা তখন হ্যালির ধূমকেতু দেখেছেন বলে, নথিপত্রে তা লিখে রেখেছেন। কখনো একে পরাজিত পক্ষের জন্য অশুভ আর কখনো বিজয়ী পক্ষের জন্য শুভ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। যেমন ১০৬৬ সালে হেস্টিংসের যুদ্ধে ইংল্যান্ডের রাজা হ্যারল্ড দ্বিতীয় পরাজিত হন, উইলিয়াম দ্য কংকারের কাছে। ফলে কংকারের কাছে ধূমকেতুটি প্রতীয়মান হয় বিজয় চিহ্ন হিসেবে।

ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী 'এডমন্ড হ্যালি' সর্বপ্রথম এই ধূমকেতু সূর্যকে কেন্দ্র করে একবার ঘোরার সময়কাল বের করেন। তার নামানুসারেই এই ধূমকেতুর নামকরণ করা হয়। হ্যালির ধূমকেতুর লেজ লম্বায় এক লাখ  কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, অথচ এর নিউক্লিয়াস আকারে অনেক ছোট, যেটি লম্বায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার, প্রস্থে ও পুরুতে ৮ কিলোমিটার।

Advertisement

এই ধূমকেতু খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়। সে হিসেবে এটি খালি চোখে দৃশ্যমান একমাত্র ধূমকেতু। যা একজন মানুষের জীবদ্দশায় দুইবার দেখা দিতে পারে। হ্যালির ধূমকেতুই প্রথম ধূমকেতু যেটিকে পর্যায়ক্রমিক ধূমকেতু হিসেবে শনাক্ত করা হয়। রেনেসাঁর যুগের পূর্বাবধি ধূমকেতুর প্রকৃতি সম্পর্কে দার্শনিক ঐক্যমত ছিল- এগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। অ্যারিস্টটল কর্তৃক প্রবর্তিত এই ধারণাটিকে ১৫৭৭ সালে টাইকো ব্রাহে খারিজ করে দেন। প্যারালেক্স পরিমাপের সাহায্যে তিনি দেখান যে, ধূমকেতুগুলো নিশ্চিতভাবেই চাঁদের ওপারে অবস্থিত। ধূমকেতু যে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে সে ব্যাপারে তখনও অনেকে নিশ্চিত ছিলেন না এবং পরিবর্তে মনে করতেন যে এগুলো সৌরজগতের মধ্য দিয়ে সরলরৈখিক পথে গমন করে।

১৯৮৬ সালে যখন শেষবার এটি দৃশ্যমান হয় তখন বিজ্ঞানীরা আকাশযান ব্যবহার করে এটি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান। এ সুযোগে পুরনো অনেক তথ্য ও ধারণা যাচাই করে নেওয়ার পাশাপাশি কিছু ভুল ধারণাও শুধরে নেওয়া সম্ভব হয়। যেমন আগে ধারণা ছিল এতে গলন্ত বরফের পরিমাণ অনেক বেশি। কিন্তু এ পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয় আসলে এর পরিমাণ অনেক কম। প্রতি ৭৫ বছর পরপর খালি চোখে ধূমকেতু দেখা যায় পৃথিবী থেকে। এরপর ২০৬১ সালের ২৮ জুলাই আবার হ্যালির ধূমকেতুটি দেখা যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!