মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে পিএসজি।
অ্যাওয়ে ম্যাচে রক্ষণ সামলে প্রতি-আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা করেছিল রিয়াল। পুরো ম্যাচেই বল দখলে আধিপত্য করে পিএসজি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের পারফরম্যান্স ছিল বেশি উজ্জ্বল। প্রথমার্ধে গোলের উদ্দেশ্যে পাঁচ শট নিয়ে কেবল একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। সেখানে বিরতির পর আরো ১৬টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখে সাতটি।
.png)
হাইভোল্টেজ ম্যাচের শুরুতেই সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যান অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। বাঁ দিক থেকে এমবাপ্পের বাড়ানো বল ফাঁকায় পেয়ে আট গজ দূর থেকে যেভাবে উড়িয়ে মারেন আর্জেন্টাইন তারকা, তা খুবই দৃষ্টিকটু।
নিজেদের সীমানা থেকে বের হতেই পারছিল না রিয়াল। তাদের বক্সের আশেপাশে পিএসজি পজেশন ধরে রাখলেও পারছিল না সুযোগ তৈরি করতে। অষ্টাদশ মিনিটে ডিফেন্ডার এদের মিলিতাওয়ের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। তবে তার দুর্বল শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও খেলা চলেছে একইভাবে। মাঝেমধ্যে রিয়াল সামনে এগোনোর চেষ্টা করেছে বটে, তবে সত্যিকার অর্থে এই অর্ধে দলটির আক্রমণভাগ বলতে যেন ছিল না কিছুই। বিরতির আগে গোলের উদ্দেশ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি তারা, একবারের জন্যও ভীতি ছড়াতে পারেনি প্রতিপক্ষের বক্সে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও চাপ ধরে রাখা পিএসজি ৫০তম মিনিটে লক্ষ্যে দ্বিতীয় শট নিতে পারে। তবে কোর্তোয়ার বাধা এড়াতে পারেনি তারা; এমবাপ্পের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। চার মিনিট পর গোলের উদ্দেশ্যে প্রথম শট নেয় রিয়াল। টনি ক্রসের দূরপাল্লার ওই প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
৬১তম মিনিটে আসে মেসির ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। এমবাপ্পেকে ডি-বক্সে দানি কারভাহাল ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। বার্সেলোনার জার্সিতে রিয়ালের বিপক্ষে ২৬ গোল করা আর্জেন্টাইন তারকা এবার পারেননি; তার দুর্বল শট আয়ত্ত্বে পেয়ে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।
আক্রমণের ধার বাড়াতে ৭৩তম মিনিটে দি মারিয়াকে তুলে নেইমারকে নামান কোচ। মাঠে নামার কয়েক সেকেন্ড পরই মাঝ বরাবর বল নিয়ে দারুণ কারিকুরিতে আক্রমণে ওঠেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। বাধ্য হয়ে তাকে ফাউল করেন দাভিদ আলাবা। কিন্তু ২০ গজ দূর থেকে ফ্রি কিক লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মেসি।
৮০ মিনিটের পর ম্যাচের গতিপথ কিছুটা পাল্টায়। যেন পথ খুঁজে পায় রিয়াল। যদিও নিশ্চিত কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি ম্যাচ জুড়ে হতশ্রী ফুটবল খেলা দলটি। পুরো ম্যাচে গোলের উদ্দেশ্যে তিনটি শট নিয়ে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি তারা!
চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে অবশেষে জয়সূচক গোল আসে। নেইমারের ব্যাকহিলে বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে প্রতিপক্ষের দুজনের মধ্যে দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে আরেকজনের বাধা এড়িয়ে দুরূহ কোণ থেকে শট নেন এমবাপ্পে। কোর্তোয়ার প্রসারিত পায়ের নিচ দিয়ে বল খুঁজে নেয় ঠিকানা। উল্লাসে ভাসে পিএসজি।