তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। ফাইনালের আগে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বুয়েন্স এইরেসে। বাড়ির দেয়াল, স্কুলের দেয়াল চিত্র কিংবা রাস্তার ধারে স্থাপনা। সবখানেই তুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। রঙ-তুলির ছোঁয়ায় চিত্রায়িত করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে ৮ বছর পর আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার পর বিশ্বকাপ জয়েরও স্বপ্ন দেখছেন মেসিরা। ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষ হলে আর্জেন্টাইনরা যে সেলিব্রেশনে মাতোয়ারা হবেন, সেই বিষয়ে তো বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এই উচ্ছ্বাসে শামিল হবে না স্ক্যালোনির গ্রামের বাসিন্দারা।
.png)
আরো পড়ুন>> মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৯, নিখোঁজ ১৪
আর্জেন্টিনার সান্তা ফে প্রদেশের পুজাতো গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন স্ক্যালোনি। ওই গ্রামের লোকসংখ্যা ৩ হাজার ৭০০। সম্প্রতি গাড়ি দুর্ঘনায় মারা গেছেন সেই গ্রামের অধিবাসী অগাস্তিন ফ্রাতিনি (২৭)। ফলে গোটা গ্রামে এখন শোকের ছায়া। সে কারণেই গোটা গ্রাম ফুটবলের মহাযজ্ঞে দেশ সেরা হলেও সেই উৎসবে শামিল না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পুজাতো গ্রামের পৌরসভার প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল কুয়াকুয়ারিনি বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেও আমরা কোনো উচ্ছ্বাস করব না। পরে সে সব দেখা যাবে। এখন কোনো কিছুর সময় নেই। স্ক্যালোনির কৃতিত্বকে যোগ্য সম্মান দেয়ার অনেক সময় থাকবে আমাদের কাছে। সেটা তার প্রাপ্যও। কিন্তু এখন আমরা চ্যাম্পিয়ন হলেও শ্রদ্ধা জানানোর কারণে শান্ত থাকব।’
আরো পড়ুন>> ১০ টাকার জন্য মাথা থেঁতলে বন্ধুকে হত্যা!
স্ক্যালোনির মুখেও উঠে এসেছে অগাস্তিনের কথা। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর স্ক্যালোনি বলেছেন, ‘পুজাতোর প্রত্যেক অধিবাসীকে জড়িয়ে ধরতে চাই। খুব দুঃখের মধ্যে রয়েছে তারা। গ্রামের একটি ছেলে মারা গেছে। গোটা ফ্রাতিনি পরিবারকে আমার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা এবং সমবেদনা জানাই।’
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) পুজাতো থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে গাড়ি চালানোর সময় একটি গাছে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যান ফ্রাতিনি। গ্রামে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন পেশায় ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান ফ্রাতিনি। মা নাতালিয়া এবং দাদি ভিলমার সঙ্গে থাকতেন তিনি। মাছ ধরতে এবং গাড়ির দৌড় ভালোবাসতেন ফ্রাতিনি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস