দিল্লিতে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ডানহাতি এই পেসার। এ সময় তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে টি-২০তে আমাদের উন্নতি কম। আসলে আশা আর চেষ্টা ছাড়া এই মুহূর্তে কিছুই করার নেই। সবকিছুর সিদ্ধান্ত বোর্ড নেয়, আমরা খেলোয়াড়রা শুধুমাত্র সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টাই করতে পারি। ব্যর্থ হলে প্রত্যেকবার উন্নতির চেষ্টাটাই শুধু হাতে আছে, আর কোনো কিছু হাতে নেই।’
ভারতীয় ব্যাটারদের মারমুখী ব্যাটিংয়ের সামনে বল হাতে তাসকিন উজ্জ্বল ছিলেন ছিলেন। চার ওভারে মাত্র ১৬ রানের বিনিময়ে পান ২ উইকেট। তবু দলের খারাপ পারফরম্যান্সের দায় তিনি এড়াতে নারাজ।
.png)
‘আমিও দলের অংশ, আমিও খেলোয়াড়। অনেকদিন ধরে আমিও খেলছি, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের আসলে টি-২০তে খুব একটা উন্নতি হয়নি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। কিন্তু চেষ্টার কোনো কমতি নেই, হচ্ছে না। দেশে যেমনই হোক কিন্তু ভালো কন্ডিশনেও আমরা প্রায়ই ফেল করছি, ভালো উইকেটগুলোতেও।’
মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে খেলাটা যে বাংলাদেশ দলের উন্নতিতে বড় বাধা, সেই ইঙ্গিতও স্পষ্টভাবেই দিলেন তাসকিন। এমন উইকেটে খেলে ব্যাটাররা হাই স্কোরিং ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে বিন্দুমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রীতিমতো ব্যর্থ।
এ ব্যাপারে ২৯ বর্ষী ক্রিকেটারের ভাষ্য,‘ওরা বিশ্বের সেরা দল। আমাদের চেয়ে অভিজ্ঞ। ওদের কন্ডিশনে তো ওরা ভালোই। উইকেট পড়লেও ওরা আমাদের বোলারদের বিপক্ষে চড়াও হয়েছে। বড় স্কোর হওয়ায় মারতে গিয়ে আমরা দ্রুত উইকেট হারিয়েছি, ছন্দ হারিয়েছি। ওদের মতো শুয়ে-বসে খেলতে গেলে আমাদের দেশে হয়তো বল মুখে লাগবে। ওরা ছোট থেকেই ভালো উইকেটে খেলে এভাবে খেলার অভ্যাস করেছে।’
ভারতের ব্যাটারদের হাই স্কোরিং ম্যাচে নিজেদের দক্ষতা প্রকাশে আইপিএলের ভূমিকাও টাইগার স্পিডস্টার উল্লেখ করেন। তার মন্তব্য, ‘এটা অবশ্যই একটা ব্যাপার। আইপিএলে বেশির ভাগ ম্যাচই হাই স্কোরিং হয়। ওরা জানে কিভাবে হাই স্কোরিং রান তাড়া করতে হয়, হাই স্কোর কীভাবে করতে হয়। ওদের কাছে ১৮০-২০০ রান খুবই স্বাভাবিক। আমাদের জন্য যেটা ঘরের মাঠে ১৩০, ১৪০, ১৫০ রান। সুতরাং আমাদের এই অভ্যাসটা কিন্তু খুবই কম, এটা বাস্তবতা।’
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত প্রথম ৭ ওভারে ৩ উইকেটে ৫১ রানের বেশি তুলতে পারেনি। এরপরই ঘটে ছন্দপতন। স্পিন আক্রমণে রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৮ ওভারে স্বাগতিক ব্যাটাররা ১১৬ রান তুলেছেন।
তাসকিন বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘আজ স্পিনারদের দিনটা একটু বেশিই খারাপ গিয়েছে। আর ওদের রানটা যখন বেশি হয়ে গিয়েছে, তখন মারতে গিয়ে আউট হয়েছে। আসলে শুরুতে উইকেট পড়ে গেলে খুব কঠিন হয়ে যায়।’
‘দেখুন, পাওয়ারপ্লেতে আমরা (বোলিংয়ে) ভালো করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্পিনারদের খারাপ দিন গিয়েছে। শিশির ছিল, বোলারদের বল গ্রিপ করতে সমস্যা হচ্ছিল। বড় রান হওয়ায় হেরে গিয়েছি। ১৮০ থেকে ১৯০-এর মধ্যে রাখা গেলেও রান তাড়া সম্ভব ছিল।’
টিম ইন্ডিয়া ২২১ রানের বিশাল সংগ্রহের সামনে দিল্লির ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে সফরকারীরা মুখ থুবড়ে পড়ে। ব্যাটারদের বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখাটাও এখন নিয়মিত ব্যাপার।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশি অভিজ্ঞ পেসারের সাফ কথা, ‘আমরা জানতাম, দিল্লির উইকেটে অনেক রান হবে। কিন্তু আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি। দুটি ম্যাচেই উইকেট ভালো ছিল। আমরাই ভালো খেলিনি।’
তানজিম হাসানের বলে ব্যক্তিগত ৫ রানে নীতিশ কুমার রেড্ডির ক্যাচ ছাড়েন লিটন দাস। পরে সেই নীতিশ ৩২ বলে ৭৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় পাল্টে দেন। তাসকিনের স্বীকারোক্তি, ‘ক্যাচ ফেলা তো সব সময়ই খারাপ।’