এই ছোট্ট শহর থেকে যারা নিজেদের ভালোবাসার বাড়িতে ফিরে যাবার জন্যে সম্পূর্ণ মনঃস্থির করেছিল, তাদের কেউ কেউ এখন পুরস্কার পাচ্ছিল প্রিয়জনদের এই শহরে আগমনে। অবশ্য তাদের কেউ কেউ রাস্তার ওপরে একাকী হাঁটছিল, কারো জন্যে অপেক্ষা না করেই।
আবার কেউ কেউ প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা খুব বেশি অনুভব করছিল না একারণে যে, তাদেরকে দ্বিগুণভাবে পৃথক থাকতে হয়নি। কারণ, তারা মহামারীর আগে নিজেদের ভালোবাসার বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়নি। ফলে বছরের পর বছর তারা অন্ধের মতো ভালোবাসাকে হাতড়ে ফিরছিল এবং অবশেষে বেমানান প্রেমিক-প্রেমিকায় পরিণত হয়েছিল। রিও ছিল এই দলের। রিও'র মতো এরা সময় গণনা নিয়ে হঠকারিতা প্রদর্শন করেছিল এবং এই সময়ে প্রিয়জনদের কাছ থেকে চিরকালের আলাদা হয়ে গিয়েছিল।
.png)
তবে র্যামবার্টের মতো যারা ছিল, তারা কোনো ধরণের সংশয় ছাড়াই তাদের ভালোবাসার মানুষদেরকে স্বাগত জানাল, যাদেরকে তারা মনে করেছিল যে হারিয়ে ফেলেছে। এরা অন্তত কিছু সময়ের জন্যে হলেও সুখী হবে। কারণ, তারা এখন জানে যে, পৃথিবীতে যদি একটা জিনিসও কামনার ও পাওয়ার থেকে থাকে, তা হলো মানুষের ভালোবাসা।
কিন্তু যারা এদের চেয়ে বেশি কামনা ও কল্পনা করেছিল, তাদের জন্যে কোনো উত্তর ছিল না। ত্যারু ছিল এই দলের। সে যে কদাচিত-পাওয়া শান্তি সম্পর্কে মাঝেমধ্যেই বলত, তা সে হয়ত জয় করে নিতে পেরেছিল, কিন্তু সেটিকে শুধু সে পেয়েছিল মৃত্যুতে, যখন সেটিকে আর হিসাবের অংশ হিসেবে গণনা করা যায় না।
এরচেয়ে বরং রিও যাদেরকে বাসস্থানের দরজায় আবেগাপ্লুত হয়ে আলিংগনরত এবং ক্ষুধার্তভাবে পরস্পরের দিকে গোধূলির সময়ে তাকিয়ে থাকতে দেখেছে, কেবল তারাই যা চেয়েছিল, তা পেয়েছে। কারণ, তারা একটামাত্র জিনিসই চেয়েছিল এবং সেটিকে পাওয়ার জন্যেই কেবল অপেক্ষা করছিল।
রিও রাস্তার কোণার দিকে যেখানে গ্র্যান্ড ও কটার্ড বাস করত, সেদিকে মুখ ফিরিয়ে ভাবতে লাগল যে, মানুষের জন্যে একমাত্র সঠিক কাজ হলো নিজের আকাঙ্খাকে সীমিত রাখা এবং বিনীত অথচ প্রবলভাবে অন্যদেরকে ভালোবাসা। বর্তমান ও ভবিষ্যতে এটাই মানুষের জন্যে একমাত্র পুরস্কার।