ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]

দ্য প্লেগ (পর্ব ৫৭) 

মূলঃ আলবেয়ার কামু (উপন্যাস - দ্য প্লেগ)
অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ
প্রকাশিত: ১৫:২১, ১ নভেম্বর ২০২২
দ্য প্লেগ (পর্ব ৫৭) 
ছবিঃ অন্তর্জাল

“বুঝতে পেরেছি,” ত্যারু মৃদু হাসল। “হয়ত তোমার জন্যেও সবকিছুই সঠিক হবে, কে বলতে পারে? সেটি তো আমাদের সবার জন্যেই হবে নতুন জীবন।”

যে এপার্টমেন্ট হাউজে কটার্ড বাস করত, সেটির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তারা পরস্পর হ্যান্ডশেক করছিল। 
“ঠিক বলেছ!” কটার্ড উত্তরোত্তরভাবে উত্তেজিত হয়ে উঠছিল।“আসলেই বিশাল ব্যাপার হবে সেটি, পরিষ্কার কাগজের পাতার মতো সবকিছুই নতুন করে শুরু করা।”

“হঠাৎ করে অন্ধকার হল থেকে দুইজন মানুষ বেরিয়ে এলো। ত্যারু কটার্ডকে বলতে শুনল,“এই নতুন পাখি দুটো কী চায়?” এরপরেই পরিচ্ছন্ন পোশাকের একজন লোক যাকে দেখতে সরকারী কর্মচারি বলে মনে হচ্ছিল, সে কটার্ডকে জিগ্যেস করল যে, তার নাম কটার্ড কিনা। পরমুহূর্তেই একটা দমবন্ধ করা চিৎকার দিয়ে কটার্ড ঘুরে দাঁড়াল এবং দ্রুতবেগে অন্ধকারের মধ্যে মিলিয়ে  গেল। অবাক হয়ে ত্যারু ও লোক দুটি শূন্য দৃষ্টিতে কয়েক মুহূর্তের জন্যে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইল।

Advertisement

এরপর ত্যারু তাদেরকে  জিগ্যেস করল তারা কী চায়। উদাসীনভাবে তারা জানাল যে, তাদের ‘কিছু তথ্য’ দরকার এবং তারপর তারা তাড়াহুড়ো না করে যেদিকে কটার্ড গিয়েছে, সেদিকে চলে গেল।

বাসস্থানে ফেরার পর ত্যারু এই অদ্ভুত ঘটনার বর্ণনা লিখল। সাথে এটাও লিখল যে, “আজ রাতে সে খুবই ক্লান্তিবোধ করছে।” ডায়রীর লেখা তার এই ক্লান্তির ব্যাপারটিকে নিশ্চিত করল। লেখাটিতে সে আরও যোগ করল যে, এখনো অনেক কিছু করার বাকি রয়ে গেছে তার, তবে এর জন্যে কোনো  ‘বিশেষ প্রস্তুতির’ দরকার আছে বলে সে মনে করে না। এই পর্যায়ে সে নিজেকেই জিগ্যেস করল যে, সে আসলেই প্রস্তুত কিনা। এরপর এক ধরণের পোস্টস্ক্রিপ্ট বা পুনশ্চ দিয়ে বলতে গেলে এখানেই ত্যারুর ডায়রি শেষ হয়েছে। সেখানে সে  লিখেছে যে, দিনের বা রাতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের সাহস সবচেয়ে কম থাকে, এবং এই সময়কেই সে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়।

পরেরদিন, ফটক খোলার জন্যে নির্ধারিত দিনের কয়েকদিন আগে দুপুরের দিকে ডাক্তার রিও নিজের এপার্টমেন্টে  ফিরছিল। তার জন্যে যে টেলিগ্রাম আসার কথা ছিল, তা এসেছে কিনা সে সম্পর্কে ভাবতে ভাবতে। যদিও তার বর্তমান  দিনগুলো প্লেগ শীর্ষে থাকার সময়ের তুলনায় কম কষ্টকর বা শ্রমসাধ্য ছিল না, তবুও আসন্ন মুক্তির সম্ভাবনা তার ক্লান্তিকে মুছে দিয়েছিল। তার মনে আশা ফিরে এসেছিল নতুন উদ্দীপনা নিয়ে। কোনো মানুষই সারাক্ষণ একাধারে চাপের ভেতরে বাস করতে পারে না। তার ইচ্ছাশক্তি এক সময়ে সহনসীমার শেষপ্রান্তে পৌঁছে যায়। তখন একটু আরাম এবং  নিজের পেশি ও স্নায়ুগুলোকে শিথিল করতে পারা আসলেই আনন্দের হয়ে থাকে। যে টেলিগ্রামের জন্যে সে অপেক্ষা করছিল, সেটি যদি ভালো খবর নিয়ে আসে, তাহলে শেষ পর্যন্ত সে সবকিছুই আবার নতুনভাবে শুরু করতে পারবে।

হলরুমের ভেতরে সে প্রহরীর কক্ষের পাশ দিয়ে পার হতেই নতুন প্রহরী যে বৃদ্ধ মাইকেলকে প্রতিস্থাপন করেছে,  সে জানালায় মুখ চেপে হলের দিকে তাকিয়ে রিও’কে দেখে মৃদু হাসল।

রিও যখন সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছিল, তখন লোকটির ক্লান্ত, কিন্তু হাসিমাখা মুখ তার চোখের সামনে ঘুরছিল।
হ্যা, সে নতুন করে শুরু করবে, যখন এই বিমূর্ততার সময়কাল পার হয়ে যাবে। ততদিন ভাগ্য কি তার অনুকূলে থাকবে? এই চিন্তাগুলো নিয়ে যখন সে দরজা খুলছিল, তখন সে তার মা’কে দেখতে পেল হলরুমের দিকে আসছেন তার সাথে দেখা করার জন্যে।

তিনি জানালেন যে, ত্যারুর অবস্থা ভালো নয়। সে অন্যদিন যখন ঘুম থেকে উঠে, আজও একইসময়ে ঘুম থেকে উঠেছে, কিন্তু বাইরে যেতে ইচ্ছে না হওয়ায় বিছানায় ফিরে গেছে। মাদাম রিও বললেন যে, তিনি তার জন্যে উদ্বিগ্ন বোধ করছেন। “খুব সম্ভব তার গুরুতর কিছুই হয়নি,” তার ছেলে উত্তর করল।

ত্যারু চিৎ হয়ে শুয়েছিল।ভারী মাথা গভীরভাবে বালিশের মধ্যে গুঁজে দিয়ে। বিছানার চাদরটি তার বিশাল বুকের ওপরে উঁচু হয়েছিল। তার মাথাব্যাথা করছিল এবং শরীরের তাপমাত্রা উঁচু ছিল। লক্ষণগুলো তেমন স্পষ্ট নয়, সে রিওকে বলল, কিন্তু এগুলো প্লেগের হতে পারে। 

তাকে নিরীক্ষা করার পর রিও বললঃ “না, এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু নেই।” 

কিন্তু ত্যারুর তৃষ্ণাও বাড়ছিল ক্রমশ, এবং অর্ধেক পথ অতিক্রম করার পর রিও তার মা’কে বলল যে, এটা প্লেগ হতে পারে। 

“ওহ!” তিনি চিৎকার করে উঠলেন। “অবশ্যই না, অন্তত এই সময়ে নয়!” এবং এর কিছুক্ষণ পর বললেন, “চলো, আমরা ওকে এখানেই রেখে দিই, বার্নার্ড।”

রিও চিন্তান্বিত হলো। ”সত্য বলতে গেলে, আমার কোনো অধিকার নেই তাকে এখানে রাখার,” সে সন্দেহ নিয়ে বলল। “তবে শহরের ফটক খুব তাড়াতাড়িই খুলে দেওয়া হবে। তখন তুমি যদি এখানে না থাকো, তাহলে আমি তার দায়িত্ব নেব।”

“বার্নার্ড, তুমি তাকে এখানে থাকতে দাও, এবং আমাকেও থাকতে দাও। তুমি তো জানো, আমি আরেকটি টিকা নিয়েছি।”

ডাক্তার জানালো যে ত্যারুও টিকা নিয়েছে। হতে পারে যে, ক্লান্তির কারণে সে সর্বশেষ টিকাটি নিতে ভুলে গেছে অথবা প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করেনি। 
চলবে...

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!