ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]

দ্য প্লেগ (পর্ব ৫৩)

মূলঃ আলবেয়ার কামু (উপন্যাস- দ্য প্লেগ)
অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ
প্রকাশিত: ২১:৩৭, ২৩ অক্টোবর ২০২২
দ্য প্লেগ (পর্ব ৫৩)
ছবিঃ অন্তর্জাল, প্রতীকী

মোটের ওপরে শহরের তেমনকিছুই বদলাল না। দিনের বেলায় আগের মতোই নীরবতা বিরাজ করতে লাগল। সূর্যাস্তের পর রাতের রাস্তাগুলো জনাকীর্ণ হয়ে উঠল। পথচারীরা ওভারকোট ও স্কার্ফ পরে এলো। ক্যাফে ও সিনেমা হলগুলো আগের মতোই ব্যবসা করতে লাগল। তবে কেউ নিবিড়ভাবে খেয়াল করলে দেখতে পেত যে, লোকজন আগের চেয়ে কম মানসিক চাপে আছে এবং কখনো কখনো তারা মৃদু হাসছেও।

এটি এ সত্যই প্রতিষ্ঠিত করল যে, প্লেগ শুরু হওয়ার পর কাউকে জনসমক্ষে হাসতে দেখা যায়নি। কারণ, বাস্তবতা ছিল যে বহু মাস ধরে এই শহর বায়ুহীন কাফনের কাপড়ের নীচে দমবন্ধ করেছিল।

এখন বাড়িগুলো আবার ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল। প্রতি সোমবারে যখন লোকজন রেডিও অন করত, তখন তারা বুঝতে পারত যে- পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হচ্ছে; খুব সত্বরই তারা মুক্তভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে পারবে। তবে এটি ছিল মূলত একটি নেতিবাচক সান্ত্বনা ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না। কারণ, শহরের মানুষদের জীবনের ওপরে এর কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল না।

Advertisement

এরপরও যদি মাত্র একমাস আগে খবর প্রকাশিত হতো যে, ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে, মানুষেরা নৌকায় উঠেছে, অথবা রাস্তার ওপরে গাড়ি চলতে দেওয়া হচ্ছে, তবে সেই খবরকে সবাই অবিশ্বাসের চোখে দেখত। অথচ এই মধ্য জানুয়ারিতে এই ধরনের ঘোষণা কোনো বিস্ময়েরই সৃষ্টি করল না। এবং এই পরিবর্তন খুবই সামান্য হলেও প্রমাণ করল যে, আশার দিকে শহরের মানূষদের সম্মুখ পদযাত্রা শুরু হয়েছে। এই আশা যত অস্পষ্টই হোক না কেন, আসলেই প্লেগের আধিপত্য শেষ হয়ে গেছে।

যাই হোক, এ মাসে শহরের নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া ছিল বিচিত্র ধরনের এবং পরষ্পরের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। আরো যথাযথভাবে বলতে গেলে তারা উচ্চ আশা ও চরম হতাশার মধ্যে উঠানামা করছিল। ফলে প্লেগে আক্রান্ত হবার পরিসংখ্যান আশাব্যঞ্জক হলেও কর্তৃপক্ষ ও প্রহরীদের অবাক করে দিয়ে আরো বেশ কয়েকজন শহর ত্থেকে পালানোর চেষ্টা করল এবং বেশিরভাগ পলায়নকারীরাই সফলভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো। তবে গভীরভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার পর দেখা গেল, এবার তাদের পলায়ন তেমন অযৌক্তিক ছিল না।

প্লেগ কিছু মানুষের মধ্যে এমন ধরনের সন্দেহের জন্ম দিয়েছিল যে, সেটি তাদের দ্বিতীয়  প্রকৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা যেকোনো ধরনের আশার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করছিল। এমনকি প্লেগ যখন পূর্ণ উদ্যমে চলছিল, তখনো তারা প্লেগ নির্ধারিত মান নিয়েই জীবনযাপন করছিল। মোটের ওপর তারা সময়ের পেছনে বাস করছিল।

তবে অন্যদের ক্ষেত্রে, যারা প্রধানত বাধ্য হয়ে তাদের প্রিয়জনদের থেকে আলাদা জীবনযাপন করছিল, তাদের মধ্যে এ পরিবর্তন কিছুটা আশার সঞ্চার করলেও তারা এক ধরনের আতংকের মধ্যে নিমজ্জিত হলো। তারা ভাবল যে, প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হবার আগেই তারা মরে যেতে পারে। এর ফলে তাদের একাকীত্ব কখনোই শেষ হবে না। সুতরাং যদিও তারা প্রবল অধ্যবসায় নিয়ে উদ্বিগ্নতার মধ্যে তাদের ওপরে আপতিত দীর্ঘ সময়ের শাস্তিকে সহ্য করে আসছিল। তবু আশার এই প্রথম আনন্দ তাদের আরো নিরাশার মধ্যে ঠেলে দিলো এবং তারা অস্থির হয়ে প্লেগ হতে দ্রুত অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করতে লাগল সেটির সঙ্গে শেষ সময় পর্যন্ত তাল মিলিয়ে চলতে না পেরে।

চলবে.....

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
ট্যাগ: দ্য প্লেগ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!