ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

ছুটির দিনের বইমেলায় প্রাণের উচ্ছ্বাস

বইমেলা প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ২১:০৭, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
ছুটির দিনের বইমেলায় প্রাণের উচ্ছ্বাস
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বইমেলার নবম দিনে পাঠক-দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর ছিল মেলা। সপ্তাহে ছুটির দিন হওয়াতে লেখক-প্রকাশকদের আনাগোনাও বেশ জমে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। 

শুক্রবার সকাল ১১টায় মেলার দুয়ার খোলে। মেলার প্রথমভাগে শিশু প্রহরে শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা। প্রথম ভাগ শিশু-কিশোরদের দখলে থাকলেও বেলা ১টার পর থেকে পুরো মেলা বড়দের দখলে চলে যায়।

অন্যপ্রকাশের স্টলে তরুণ লেখক সাদাত হোসেনের বই নেয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়েছেন বাসাবো এলাকার আফসানা। মিনিট ২০ যাওয়ার পর কাঙ্ক্ষিত লেখকের অটোগ্রাফ নেন তিনি। 

Advertisement

ডেইলি বাংলাদেশকে আফসানা বলেন, এবার মেলাতে আজকেই প্রথম এসেছি। সাদাত ভাইয়ার আগুন ডানার মেয়ে উপন্যাস কিনলাম। সঙ্গে তার অটোগ্রাফও নিয়েছি। আজকে মেলা সার্থক মনে হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক বলেন, আজকে অনেক বই কিনেছি। আসিফ নজরুল স্যার, সলিমুল্লাহ খানের সবমিলিয়ে ৩টা বই কিনেছি। 

তিনি আরো বলেন, মেলাতে প্রতিদিনই আসা হয় কিন্তু বই কিনিনি। আজ কেনা হলো। আরো কিছু বই কেনার ইচ্ছে রয়েছে। তাছাড়া কিছু লেখকের বই এখনও স্টলে আসেনি, বলে দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।

এদিকে বিক্রেতারও চোখেমুখে হাসির ছাপ। নন্দিতা প্রকাশের বিক্রয়কর্মী আরিফুল ইসলাম বলেন, আজ বিক্রি অনেক ভালো। পাঠক-দর্শনার্থী সমাগমও অনেক বেশি। গত সপ্তাহের তুলনায়, এই শুক্রবারে অনেক লোকসমাগম হয়েছে।

মেলার লোকসমাগমের পাশাপাশি মেলা জুড়ে ছিল এইদিন নানা আয়োজন। শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এতে ক-শাখায় ৩৯৫, খ-শাখায় ২৩৫ এবং গ-শাখায় ৬৫ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন অধ্যাপক নিসার হোসেন।

সকাল সাড়ে ৯ টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। 

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ এস ওয়াজেদ আলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবু হেনা মোস্তফা এনাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইকতিয়ার চৌধুরী এবং কুদরত-ই-হুদা।

অন্যদিকে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন শিশুসাহিত্যিক রিফাত নিগার শাপলা, গবেষক অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান, কবি মাশরুরা লাকী এবং কথা সাহিত্যিক আনোয়ার হোসেন বাদল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি হারিসুল হক, বায়তুল্লাহ কাদেরী এবং আফরোজা সোমা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আজহারুল হক আজাদ, সৈয়দ শহিদুল ইসলাম, সুকান্ত ৩৫ এবং তামান্না সারোয়ার নীপা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুথি পাঠ করেন আবুল বাশার ভালুকদার।

এছাড়া ছিল মো. বশির উদ্দিন মাহমুদের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বিশ্বভরা প্রাণ’, সিলেটের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রতি সিলেট’ এবং ড. লীনা তাপসী খানের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘Intemational Center Hengali Music (ICHM)’ এর পরিবেশনা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!