সদরঘাটে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ, জবি ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ
রাজধানীর সদরঘাটে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে অর্থ দাবি ও লেনদেনের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তা, ধাক্কাধাক্কি ও জোর করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জবি প্রেসক্লাবের দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রোকুনুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মুসফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. লিমন ইসলাম বলেন, সোমবার (৫ অক্টোবর) সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে লঞ্চের কর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা দাবি এবং শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে জবি প্রেসক্লাবের সদস্য ও বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম এবং পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবকে হেনস্তা করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি করে ঘটনাস্থল থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
প্রেসক্লাবের বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় জবি শাখা ছাত্রদলের কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ, লোক প্রশাসন বিভাগের আলিমুল, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের সাইন আহমেদ পবন, ইতিহাস বিভাগের ১৮তম ব্যাচের সাইদ ও নাইম, থিয়েটার বিভাগের ১৮তম ব্যাচের নাইম, আইইআর বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলীসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, অভিযুক্তদের বেশিরভাগই আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের কর্মী হিসেবে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, মাদক সেবন ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
জবি প্রেসক্লাব নেতারা বলেন, কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই ও তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাংবাদিকদের হেনস্তা, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জবি প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি বা হেনস্তার ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।
ক্যাপশন: সদরঘাটে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগে জবি ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে জবি প্রেসক্লাব।