আকাশ দাশকে চাকসুর শপথ দেওয়ার প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য আকাশ দাশকে শপথ পড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড় প্রদক্ষিণ করে আবার জিরো পয়েন্টে এসে মিছিলটি শেষ হয়। এতে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
ছাত্রদলের দাবি, চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৭ দিন আগে আকাশ দাশকে শপথ পড়ানো হয়েছে। গত বছরের ২৪ অক্টোবর চাকসুর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের এক দিন আগে ধর্ষণ নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাঁর শপথ গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ওই বক্তব্যের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে আকাশ দাশের শপথ গ্রহণের প্রতিবাদ এবং চাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান ছিল।
মিছিল শেষে সমাবেশে চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘কাবিননামা দেওয়ার পরও একজন নারীকে ঝুলে থাকতে দেখেছি। যারা আজ আকাশ দাশকে শপথ করানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তারা চাকসুর ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘তারা এ ক্ষেত্রে আইনের কথা বলে। কিন্তু তারা যদি আইন মেনে কাজ করত, তাহলে ন্যূনতম একটি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আমরা দেখতে পেতাম। চাকসুর মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। তারা যে প্রক্রিয়ায় চাকসু নিয়ন্ত্রণ করে আসছে, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা চাকসুকে ঘৃণার চোখে দেখবে।’
আলাউদ্দিন মহসিন আরও বলেন, ‘গতকাল আমার এক সহকর্মীকে নিয়ে ফাও খাবারের নিউজ হয়েছে। অথচ আমরা সেখানে গিয়ে জানতে পেরেছি, এটি শুভঙ্করের ফাঁকি।’
চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘চাকসুর মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ১৭ দিন বাকি। কেন এবং কোন কারণে ধর্ষণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন সদস্যকে শপথ করানো হয়েছে, তা শিক্ষার্থীরা জানতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘চাকসু ভিপি ১০ ভরি স্বর্ণ দিয়ে তিন তারকা হোটেলে কীভাবে বিয়ে করেন? এর অর্থের উৎস কী, আমরা তা জানতে চাই। তারা ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নবীনবরণ করেছে। এই অর্থের উৎস সম্পর্কেও আমরা জানতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি হল দখল করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করা হলে ছাত্রদল সব সময় প্রতিবাদ করবে।’
আব্দুল্লাহ আল নোমান আরও বলেন, ‘আমরা জানি, ধর্ষণ জামায়াত-শিবিরের ঐতিহ্য। তারা একাত্তরে আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে।’
সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘চাকসুর প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতির নামে চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেননি। তারা তাদের মাদার পার্টিকে সার্ভ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই চাকসুর মাধ্যমে আমরা পেয়েছি ধর্ষণের সাফাইকারী। চাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে তাকে শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কথা ছিল। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই চাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বড় অপরাধ করেছে। তাদের অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।’
বিক্ষোভ মিছিলে চবি ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।