ঢাকা,  বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ ক্যাম্পাস ]

জাবিতে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা, ভেঙে উপাচার্যকে বের করল ছাত্রদল

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪৬, ৪ নভেম্বর ২০২৬
জাবিতে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা, ভেঙে উপাচার্যকে বের করল ছাত্রদল
অবরুদ্ধ উপাচার্যকে বের করতে তালা ভাঙেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবিতে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান নেন একদল শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে তালা ভেঙে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার ভবনের ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানান।

ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহজালাল মাহমুদ বলেন, তাঁদের দাবি, ইনস্টিটিউটের শিক্ষককেই পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং শিক্ষার পরিবেশ ও ইনস্টিটিউটের অগ্রগতির স্বার্থে তাঁদের প্রত্যাশা। ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানান তাঁরা।

এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। সভা শেষে সন্ধ্যার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ভবন থেকে বের হতে গিয়ে ফটকে তালা দেখতে পান। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

পরে তাঁরা তালা ভেঙে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন। উপাচার্যকে ঢাকায় তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা বা প্রয়োজন হলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। তবে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অধিকার শিক্ষার্থীদের নেই।

তিনি আরও বলেন, যারা তালা দিয়েছে এবং এর পেছনে যেসব শিক্ষক রয়েছেন বা ইন্ধন দিয়েছেন, তাঁদের শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন, গত সোমবার সিএলসির পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, নিয়োগের বিরোধিতায় কিছু শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। প্রশাসন তাঁদের কথা শুনে বিদায় করার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী সিন্ডিকেট সভা চলাকালে ভবনে তালা দেন।

বাবর আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে অবস্থান নেন এবং তালা ভেঙে উপাচার্যকে তাঁর ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের আগের পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন পরিচালক নিয়োগের পর ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ইনস্টিটিউটের বিষয়সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।

অন্যদিকে, অধ্যাপক মানছুরকে দায়িত্ব গ্রহণ না করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক হামীমের বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধ্যাপক মানছুর বিষয়টি উপাচার্যকে জানিয়েছেন। উপাচার্য অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জাবি/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!