নিখোঁজ তরুণের মরদেহ মিলল বান্ধবীর বাসায়
রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরের বাসা থেকে সোমবার বিকেলে বের হয়েছিলেন নাজমুল আলম সেজান (২১)। রাতে বাসায় না ফেরলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান স্বজনেরা। পরে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সেজানের লাশ পড়ে থাকার খবর পান।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই নারী সেজানকে ভাটারার নুরের চালার বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঐ দুইজনের একজন নিজেকে সেজানের বান্ধবী বলে দাবি করেছেন, অপরজন বান্ধবীর মা।
আরো পড়ুন>>> রাজধানীতে বুধবার কোথায় কি বন্ধ
.png)
জানা যায়, সেজান একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন আগে ভর্তি হয়েছিলেন বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাশিমপুরে। তবে সে বাবা-মায়ের সঙ্গে গুলশানের কলাচাঁদপুরে থাকতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে সবার বড় ছিল।
বান্ধবী পরিচয় দেওয়া ঐ নারী হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের কাছে দাবি করেছেন, দুজনই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং তারা ভালো বন্ধু। মঙ্গলবার দুপুরে সেজান তাদের বাসায় আসে। সে তার পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে আলাপ করে। দুপুরে খাওয়ার পর তিনি নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে যান। তার মা বাইরে যান।
পরে সন্ধ্যার আগে মা বাসায় ফিরে কলিং বেল দিলে তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেন, ড্রয়িং রুমের সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে দুটি গামছায় গলায় ফাঁস দিয়ে সেজান ঝুলছে। প্রতিবেশীদের সহায়তায় সেজানকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
আরো পড়ুন>>> বুধবারের রাশিফল (২ ফেব্রুয়ারি)
এদিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে যান সেজানের বাবা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সাইফুল আলম। তিনি বলেন, সোমবার তার ছেলে বাসা থেকে বের হয়। রাতে আর ফেরেনি। এরপর তারা মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। হাসপাতাল থেকে পুলিশের ফোন পেয়ে এসে দেখি ছেলের লাশ।
তিনি জানান, তার ছেলের আত্মহত্যার কোনো কারণ তিনি পাচ্ছেন না। বান্ধবীর বাসায় সেজানকে হত্যা করা হতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঐ তরুণের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার বান্ধবী ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য নেয়া হচ্ছে। ঘটনাটি ভাটারা থানাকে জানানো হয়েছে।