বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাজিব কর রাজু নামে ওই ব্যক্তি এ মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।
আসামিরা হলেন- কোতোয়ালি থানার এসআই মিজানুর রহমান ও জলিল এবং এএসআই ফরিদ ভূঁইয়া।
.png)
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই সাদা পোশাকে ভুক্তভোগীর ৬৯ নম্বর গোয়ালনগর কোতোয়ালির বাসায় সিলিং ভেঙে ঢোকেন এসআই মিজান ও এএসআই ফরিদ ভূঁইয়া। কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তাকে হাতকড়া পরিয়ে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন তারা।
ভুক্তভোগীর বাসা তল্লাশি চালিয়ে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৮ টাকার স্বর্ণ এবং তার মায়ের চোখ অপারেশন করার ৪১ হাজার ৩০০ টাকা ছাড়াও বাসা থেকে মোবাইল, ল্যাপটপ কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালান আসামিরা। নির্যাতনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজুকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে তাকে আবার থানায় নেন তারা। তাকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে বলেন। না হলে অস্ত্র ও মাদক মামলার আসামি বানিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দেন আসামিরা।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা আবারো নির্যতন করেন। পরবর্তীতে দুই দফায় দুই লাখ টাকা দেন ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন। নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে প্রায় এক বছর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ভুক্তভোগী রাজু।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করতে যান ভুক্তভোগী রাজু। কিন্তু মামলা না নিয়ে তাকে ঘোরাতে থাকেন থানা কর্তৃপক্ষ। আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে সবার পরামর্শে মামলা করেন রাজু।