ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজধানী ]

দুই ভরি স্বর্ণের জন্য মাকে খুন, এতিম ছোট্ট তানভীরের বুকফাটা কান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক 
প্রকাশিত: ১৬:১৬, ৩০ মার্চ ২০২২
দুই ভরি স্বর্ণের জন্য মাকে খুন, এতিম ছোট্ট তানভীরের বুকফাটা কান্না
ছবি: সংগৃহীত

তানভীরুল ইসলামের (তানভীর) বয়স হয়েছে মাত্র ১০ মাস। এ ছোট্ট বয়সে জীবনের সবচেয়ে বড় নির্মমতা দেখলো সে। তার চোখের সামনেই মা তানিয়া আক্তার মুক্তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্ত মো. বাপ্পী। এ সময় ছোট্ট শিশুটিকে ছাড়েনি বাপ্পী। তাকেও বালিশচাপা দেয় এ দুর্বৃত্ত। কিন্তু ভাগ্য সহায় থাকায় প্রাণে বেঁচে যায় তানভীর। 

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন তানভীর অপরিচিত কারো মুখ দেখলেই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। কখনও জুড়ে দেয় বুকফাটা কান্না। 

উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর সবুজবাগে বাসার ভেতর নির্মমভাবে তানিয়া আক্তার মুক্তাকে (২৬) খুন করা হয়।

পুলিশ বলছে, এয়ারকন্ডিশন (এসি) মেরামতের কথা বলে লুটপাট চালাতে বাসায় যায় মো. বাপ্পী। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সে এসি মেরামতের জন্য গিয়েছিল। খালি বাসা পেয়ে দুই ভরি স্বর্ণালংকারের জন্য তানিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

খুনের সময়ে তানভীরের হাত-পা, মুখ আটকে দেওয়া হয় স্কচটেপে, মুখ ঢেকে দেওয়া হয়েছিল বালিশে। তানিয়ার পৌনে তিন বছরের মেয়ে মায়মুনা জামানকেও একইভাবে বাঁধা হয়েছিল। এরপর শিশু দুটিকে ফেলে রাখা হয় মায়ের রক্তাক্ত মরদেহের পাশে। শনিবার নির্মমতার পর মায়ের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। আর শিশু দুটিকে নেয়া হয়েছিল মুগদা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে মায়মুনাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও তানভীর হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।

মুগদা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট তানভীরকে ঘিরে হাসপাতালে আসা অন্যান্য মায়েরা জটলা বেঁধেছেন। দুধের তৃষ্ণায় ছোট্ট শিশুটি কান্না করলেই তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে অন্যান্য শিশুর মায়েরা। রাজধানীর দোলাইরপাড়ের বাসিন্দা আকবর চৌধুরী ও নাদিয়া ইসলাম দম্পতির ১১ মাস বয়সী সাইফা তাসফি রোজা। রোজার জ্বর নিয়ে তারা হাসপাতালে এসেছেন। এর মধ্যে রোজার মা ১০ মাসের এতিম তানভীরকে আপন সন্তানের মমতায় বুকে তুলে নিয়েছেন। নিজের বুকের দুধপান করাচ্ছিলেন তিনি। 

তিনি বলেন, শনিবার প্রায় একই সময়ে শিশুটিও হাসপাতালে আসে। মা হারানোর ঘটনা শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। এরপর নিজের সন্তানের সঙ্গে মা-হারা তানভীরের দেখভাল শুরু করি। নিজের সন্তানের সঙ্গে তিনি মা-হারা তানভীরকে খাবার ভাগ করে দিচ্ছি।

আকবর চৌধুরী বলেন, তার স্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তে অন্য একটি নিষ্পাপ শিশু বেঁচে যাচ্ছে, এটা অনেক সম্মানের।

শিশু ওয়ার্ডের একজন চিকিৎসক জানান, বালিশচাপা দেওয়ায় তানভীরের শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হচ্ছিল। শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর অন্তত তিন ঘণ্টা তাকে অক্সিজেন দিতে হয়েছে।

সবুজবাগ থানার ওসি মুরাদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জেনেছেন বাসা থেকে মাত্র দুই ভরি স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, িঐ স্বর্ণালংকার লুট করার সময়ে বাধা পেয়ে তানিয়াকে খুন করা হয়। হয়তো দুই শিশু কান্নাকাটি করায় ওদের হাত-পা ও মুখ বাঁধা হয়েছিল। 

স্বজনরা জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় তানিয়া ও তার শিশু দুই সন্তান ছিল। স্বামী মাইনুল ইসলাম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টেকনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।।

মাইনুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময়ে বাসার এসি মেরামত করতো বাপ্পী। শনিবার দুপুরেও সে তানিয়াকে ফোন দিয়ে এসি যাচাইয়ের জন্য বাসায় আসতে চায়। তখন তাকে বিকেলে আসতে বলা হয়। ঐ ছেলেটাই স্ত্রীকে খুন করে পালিয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
ট্যাগ: খুন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!