গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. শফিকুল ইসলাম, নুর ইসলাম, গোলাম রাব্বি, মো. আব্দুর রহমান, সীমা আক্তার ও শাহনাজ। মঙ্গলবার ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি ও মাদারীপুরের শিবচর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বিস্কুট, চেতনানাশক ওষুধ, মোবাইল ফোন ও চোরাই সিএনজি উদ্ধার করা হয়।
বুধবার কেরাণীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
.png)
তিনি জানান, গত ২৭ জুন দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. ফিরোজ নামে প্রতিদিনের মতো ইজিবাইক নিয়ে বের হন। আনুমানিক বিকেল ৫টা থেকে পরিবারের লোকজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বিভিন্নভাবে খোঁজ-খবর নেয়। সন্ধান না পেয়ে ২৮ জুন ফিরোজের বাবা কিবরিয়া গাজী দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় জিডি করেন। এরপর থেকে নিখোঁজ ফিরোজকে উদ্ধারে নজরদারি বৃদ্ধি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ইজিবাইক ছিনতাইকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদ উদ্দিন জানান, গত ২৭ জুলাই শফিকুল, নুর ইসলাম, গোলাম রাব্বি, আব্দুর রহমান, সীমা আক্তার ও শাহনাজ ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় যান। নুর ইসলাম, গোলাম রাব্বি, সীমা ও শাহনাজ হাসনাবাদ গরুর হাটে যাওয়ার উদ্দেশে ফিরোজের ইজিবাইক ভাড়া করেন। হাটে যাওয়ার পর নুর ইসলাম ও গোলাম রাব্বিকে ইজিবাইক চালক ফিরোজের সঙ্গে চা-বিস্কুট খাওয়ার কথা বলে সীমা ও শাহনাজ গরু হাটে চলে যান। পরবর্তীতে নুর ইসলাম ও গোলাম রাব্বি চায়ের দোকান থেকে এক প্যাকেট বিস্কুট কেনেন। পরে তারা কৌশলে ঐ বিস্কুটের প্যাকেট পরিবর্তন করে ফিরোজকে চেতনানাশক মেশানো বিস্কুট খাওয়ান।
তিনি আরো জানান, ফিরোজের শরীরে চেতনানশক ওষুধের ক্রিয়া শুরু হলে তারা ইজিবাইকসহ ফিরোজকে ঐ এলাকা থেকে সরিয়ে কাউটাইল এলাকায় নিয়ে যান। এরপর ফিরোজকে বেসামাল অবস্থায় ফেলে রেখে নুর ইসলাম ও গোলাম রাব্বি ইজিবাইক নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় গিয়ে দলনেতা শফিকুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। শফিকুল ইসলাম ঐ ইজিবাইকটি শহিদ নামে একজনের কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।
ইজিবাইক ছিনতাইয়ে যার যে ভূমিকা
গ্রেফতারকৃত শফিকুল ইসলাম চক্রটির দলনেতা। সে পেশায় সিএনজিচালক। সিএনজি চালানোর আড়ালে তিনি চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে সিএনজি/ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব দেন। তার বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, অসাধুভাবে চোরাই মালামাল বেচাকেনাসহ ৪টি মামলা রয়েছে। নুর ইসলাম পেশায় ট্রাকের হেলপার। তিনি সিএনজি/ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের চেতনানাশক ওষুধ মেশানো বিস্কুট খাওয়ানোর দায়িত্ব পালন করেন।
গোলাম রাব্বি পেশায় ইজিবাইক চালক। তিনি ছিনতাই করা ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুর রহমান পেশায় সিএনজি চালক। তিনি ছিনতাই করা সিএনজি/ইজিবাইক চালানোর দায়িত্ব পালন করেন। তার কাছ থেকে ফিরোজের মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়।
শাহনাজ বিস্কুটের ক্রিমের সঙ্গে মেশানোর জন্য অবৈধ চেতনানশক ওষুধ সংগ্রহ করতেন। তিনি শফিকুল ইসলামের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকাসহ আশপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সেখান থেকে তারা বিস্কুটের সঙ্গে চেতনানশক মিশিয়ে ইজিবাইক ও সিএনজি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করতেন। সীমা আক্তার বিস্কুটের ক্রিমের সঙ্গে চেতনানশক ওষুধ মেশানো ও সিএনজি/ইজিবাইক ভাড়া করে পূর্ব-পরিকল্পিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন।