মিরপুরের ঢাকা কমার্স কলেজ সংলগ্ন ঝিলপাড় বস্তির সামনের সড়কে ঐ ঘটনার পর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে ডেসকো। কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে, ঝিলপাড় বস্তি এলাকায় তিনটি চোরাই লাইন নেয়া হয়েছিল। যার ভোক্তার সংখ্যা ৪০০/৪৫০ জন। চোরাই লাইন যারা নিয়েছেন তাদের তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে ডেসকো।
ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কাওসার আমীর আলী বলেন, আমাদের ঐ এলাকায় (মিরপুর) বিদ্যুতের লাইন সুসংগঠিত ছিল। ২৫০-৩০০ জন ভোক্তা সেখানকার লাইন ব্যবহার করেন। তবে কেউ কেউ চোরাই লাইন নিয়েছিলেন। ডেসকোর দূরবর্তী একটি লাইন থেকে ছাদ বেয়ে মাদরাসা ও ফার্মেসির মাঝ দিয়ে প্লাস্টার ভেঙে ড্রেনের ভেতর দিয়ে রাস্তার এক পাশ থেকে আরেক পাশে চোরাই লাইন নেয়া হয়েছিল।
.png)
তিনি আরো বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়। যেখানে চোরাই লাইন জোড়া লাগানো হয়েছিল, সেখানে হয়তো ইনসুলেশন ছিল। সেখানে বৃষ্টির পানি পৌঁছেছিল। সেখান দিয়ে যাওয়ার পথে কারো হয়তো পা পড়েছিল। এতেই একেক করে পাঁচজন বিদ্যুতায়িত হন। এরমধ্যে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় এক শিশু। তবে মর্মান্তিকভাবে মারা যায় চারজন। চোরাই লাইন নেয়া অনেকের নাম পেয়েছি। তদন্ত এখনও চলছে। কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করার পর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে প্রবল বৃষ্টিতে মিরপুর মডেল থানার সিরাজিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা হাজী রোড ঝিলপাড় বস্তির বিপরীত পাশের রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। জলমগ্ন ঐ সড়কে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন। নিহতরা হলেন- মিজান, তার স্ত্রী মুক্তা বেগম, মেয়ে লিমা এবং অটোচালক অনিক। বেঁচে যাওয়া শিশু হোসাইনকে বাঁচাতে গিয়েই মারা যান অটোচালক অনিক।
মিরপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। ঐ রাতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ডেসকো এ ঘটনায় যেহেতু তদন্ত কমিটি করেছে। আমরা ঐ তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি।