ভাইরাল ভিডিও থেকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে মরিয়মের শেষ পরিণতি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন মরিয়ম খাতুন। ভিডিওতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাকে দেখা যায়। পরে ভিডিওতে থাকা তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন নজরুল ইসলাম। মরিয়ম ও তার বাবাও তাদের বিয়ের কথা প্রকাশ্যে জানান।
এর প্রায় দুই মাস পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর সামনে এসেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পায়। ঘটনাটির কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন।
যেভাবে আলোচনায় আসেন মরিয়ম
.png)
চলতি বছরের ২০ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিএম নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে পরদিন নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম হিসেবে পরিচয় দেন।
নজরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়মকে বিয়ে করেন তিনি। তিনি আরও দাবি করেন, ভিডিওটি তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের এবং সেটিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তখন জামায়াতে ইসলামীও বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কথা জানিয়েছিল। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিয়ের কথা জানায় মরিয়মের পরিবারও
ভাইরাল ভিডিও নিয়ে আলোচনার মধ্যে মরিয়ম ও তার বাবা মাসুম বিল্লাহ আলাদাভাবে বক্তব্য দেন। মরিয়ম বলেন, জিএম নজরুল ইসলাম তার স্বামী এবং তাদের বিয়ে হয়েছে। তার বাবা মাসুম বিল্লাহও দাবি করেন, ১৭ জুন তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়।
নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও একটি ভিডিও বার্তায় তার স্বামীর সঙ্গে মরিয়মের বিয়ের কথা স্বীকার করেন বলে একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মরিয়মের বয়স ও বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে কিছু নথিগত প্রশ্নও সামনে আসে।প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ জুনের একটি জীবনবৃত্তান্তে মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ এবং জন্মতারিখ ২২ মে ২০০৮ উল্লেখ ছিল। ওই নথিতে নজরুল ইসলামের সুপারিশও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ভিডিও ছড়ানো নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
ভাইরাল ভিডিও কীভাবে ধারণ ও ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়েও তখন নানা বক্তব্য আসে। নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি ছিল, তাকে ও মরিয়মকে একটি স্থানে আটকে রেখে অর্থ দাবি করা হয়েছিল এবং পরে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্যও ছিল এবং ঘটনাটি নিয়ে তখন নানা দাবি-পাল্টা দাবি সামনে আসে। সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছিল, তারা ওই অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল্লাহর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এরপর ন্যাম ভবনে মরিয়ম
ভাইরাল ভিডিও ও বিয়ে নিয়ে আলোচনার প্রায় দুই মাস পর রোববার রাতে মরিয়মের মৃত্যুর খবর আসে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মকে দেখা যায়।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহটি জানালা দিয়ে দেখা গেলেও তখনো পুলিশ কক্ষে প্রবেশ করেনি। পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। কখন ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করার কথা জানিয়েছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া হয়নি।
এখন সামনে তদন্তের প্রশ্ন
মরিয়মের মৃত্যু এমন সময়ে ঘটল, যখন মাত্র দুই মাস আগেই তাকে ঘিরে জিএম নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ঘটনাস্থলের আলামত, ফরেনসিক পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানের পরই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।