ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ডেঙ্গু ঠেকাতে ডিএসসিসির ১২ দিনের জরিপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:০৩, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গু ঠেকাতে ডিএসসিসির ১২ দিনের জরিপ
সংগৃহীত ছবি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও তথ্যনির্ভরভাবে পরিচালনা করা হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগর ভবনে এ জরিপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

Advertisement

গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ জরিপ চলবে আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব এবং লার্ভার প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করা হবে।

জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৭২ জন মাঠকর্মী অংশ নিচ্ছেন। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ অ্যাপ্লিকেশন।

জরিপ শেষে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) ও পিউপা ইনডেক্স (পিআই) নির্ধারণ করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাগুলোকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী তিন ভাগে চিহ্নিত করা হবে।

বিআই ২০ বা তার বেশি হলে এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ, ১০ থেকে ১৯ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০-এর নিচে হলে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এই জরিপের মাধ্যমে ডিএসসিসি এলাকার বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র পাওয়া যাবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, প্রাক্-বর্ষা জরিপে বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের জায়গায় পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকরা এগিয়ে এলেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এর আগে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি লার্ভার ঘনত্ব পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে সিটি কর্পোরেশন।

জরিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!