জানা যায়, কোরআনিক পার্ক গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্ম-বর্ণের মানুষের সঙ্গে বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির সেতুবন্ধ। কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন সৃষ্টি, উদ্ভিদ ও ঘটনার সঙ্গে মিল রেখেই তৈরি করা হয়েছে এ কোরআনিক গার্ডেন। আল-খাওয়ানিজ অঞ্চলে ৬৪ হেক্টর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে কোরআনিক গার্ডেন হলি কোরআন পার্ক।
মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন,‘(জালিকাল কিতাবু লা রাইবা ফিহি) এই কিতাবে কোনো ভুল নেই। এই কিতাব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ এজন্যই এই পার্কে কোরআনের আলোকে বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিষয়ে জানতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য পর্যটক। কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন সত্য ঘটনার কোনো বর্ণনার চিত্রায়ন ও সাজসজ্জা বাদ যায়নি এ পার্কে। এতে রয়েছে মরুদ্যান, পাম বাগান, নয়নাভিরাম লেক, চলমান রাস্তা এবং সাইক্লিনিং ট্র্যাক ও হাঁটার রাস্তা।
.png)
কোরআনে বর্ণিত দারুচিনি, জলপাই, মরিচ, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, গম, আদা, কুমড়া, তরমুজ, তেঁতুল, আঙ্গুর, কলা, ডুমুর, ডাল, ভুট্টা, বার্লি, শসা, আম, কাছিড়, তুঁত এবং বিভিন্ন মসলার উদ্ভিদ দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে এ কোরআনিক পার্ক। তাছাড়া কোরআনিক গার্ডেনে এমন কিছু উদ্ভিদের বাগান রয়েছে, যা দ্বারা ভেষজ চিকিৎসা করা যায়। এছাড়া রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণ দৃষ্টিনন্দন ঝরনা। গ্লাস নির্মিত স্বচ্ছ ভবন। কোরআনের বর্ণনায় একটি রহস্যময় গুহার আবহও তৈরি করা হয়েছে।
এসব দেখে দর্শনার্থীরা খুব সহজেই কোরআনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আরো জ্ঞান অর্জন করতে পারছে। গবেষক ড: আব্দুস সালাম জানান, কোরআনিক পার্ক বলতে, কোরাআনের মধ্যে যেসব গাছের কথা বলা হয়েছে, সে গাছগুলো এখানে রোপন করা হয়েছে। যেমন তীন, জয়তুন এবং যে সমস্ত গাছের কথা আছে কোরআনে। এছাড়াও পবিত্র কোরআন এবং হাদিস মিলিয়ে আরো অনেক গাছ আছে যা এখানে রোপন করা হয়েছে।
কোরআনে যেসব নোহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেগুলোর আকৃতিও এই পার্কে রয়েছে। যেসব গুহা সম্পর্কে কোরআনে উল্লেখ রয়েছে সেগুলোও ছোট পরিসরে তৈরি করা হয়েছে। যেমন আসহাবে কাহাফের গুহা রয়েছে এই পার্কে। বাস্তবে কেউ যদি সেই পার্কের আসহাবে কাহাফের ভিতরে যায় তাহলে সে একটি ভয়ানক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। ভয়ানক একটি অনুভুতির সৃষ্টি হয় সেখানে। যেমনটি হজরত মুহাম্মদ (স:) হযরত ওমর (রা:)কে বলেছিলেন, তুমি যদি আসহাবে কাহাফের সেই গুহাতে পৌঁছাও তাহলে তোমার শরীরের মধ্যে একটি হিম ভাব আসবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এই আসহাবে কাহাফের বিষয় অনেক তথ্য দিয়েছেন। ঠিক কোরআনিক পার্কের ওই গুহাতে ঢুকলেও দর্শনার্থীরা সেই অনুভূতি পাবে! সেই রকম আকৃতি দিয়ে গুহাটি তৈরি করা হয়েছে পার্কে। কোরআনে যেসব বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে সে সবকিছুই বিদ্যমান রয়েছে কোরআনিক পার্কে।
হজরত মূসা (আ:) এবং মিশরের নীল নদের কথা কোরআনে এসেছে। সেই নীল নদীর একটি আকৃতি এই পার্কে স্থাপন করা হয়েছে। এরকম হজরত ইউসুফ (আ:)-কে যে কুয়ায় ফেলে দেয়া হয়েছে সেই নিদর্শনও তৈরি করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা দিতেই পার্কটি তৈরি করা হয়েছে।
শুধু মুসলিমরাই নন, অন্যান্য ধর্মের মানুষও পার্কটিতে ঘুরতে আসেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, আমি কোরআনের অবতীর্ণকারী এবং সংরক্ষণকারী। এই কোরআনিক পার্কে কোরআনে তাৎপর্য অনুধাবন করে মানুষ অন্ধকার জগত থেকে আলোর পথে ফিরে আসবেন এটাই সবার প্রত্যাশা।
দর্শনার্থীদের একজন জানান, পার্কর্টিতে বেশ কিছু গাছের সমারোহ রয়েছে। তার মধ্যে তীন গাছ, খেজুর গাছ, জয়তুন গাছসহ আরো অনেক ফুল গাছের সমারোহ এখানে আছে। পার্কে কর্মরত একজন কর্মচারী জানান, আমি পার্কে কাজ করি। প্রতিদিন শত শত পর্যটক এখানে আসে।
এ কোরআনিক গার্ডেনে রয়েছে মূল প্রবেশদ্বার, প্রশাসনিক ভবন, ইসলামিক বাগান, শিশুদের খেলার স্থান, দর্শনীয় স্থান, উন্মুক্ত আঙ্গিনা এবং কোরআনের অলৌকিক ঘটনার বর্ণনাসমৃদ্ধ এলাকা। পর্যাপ্ত খোলা জায়গা এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এ কোরআনিক পার্কে। প্রকল্পটি নির্মাণে দুবাই মুদ্রায় ২৭ মিলিয়ন অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।