সেলিম মণ্ডল দুপুরে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুর হোসেন তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে সঙ্গে অপর পলাতক দুই আসামি আব্দুল হানিফ ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
আলোচিত এ হত্যা মামলার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন আসামি সেলিম মণ্ডল। আয়েশা আক্তার সেলিম মণ্ডলের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
.png)
সেলিম মণ্ডল হাইকোট থেকে চলতি বছর ১৩ মার্চ থেকে ১৫ এপিল পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন জামিন পান। ২১ এপ্রিল হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পনের নিদেশ দেয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিঙ্গাইর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন গত ৬ জানুয়ারি আলোচিত এ হত্যা মামলার অভিযোগ পত্র আদালতে দাখিল করা হয়। আদালত ৫ ফেব্রয়ারি অভিযোগ পত্রটি আমলে নিয়ে নেন।
আনোয়ার হোসেন আরো জানান, পারিবারিক কোন্দলের জের ধরে ২০১৮ সালের ২ আগস্ট স্ত্রীকে পিটিয়ে মেরে ফেলার কথাও স্বীকার করেছে সেলিম মণ্ডল। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সহযোগীদের নিয়ে মরদেহ গুম করার জন্য পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে।
গত ৩ আগস্ট সিঙ্গাইর উপজেলার বায়রা গ্রাম থেকে আগুনে ৯০ শতাংশ দগ্ধ একটি তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে সিঙ্গাইর থানা পুলিশ। পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহটি মানিকগঞ্জ পৌরসভা কবরস্থানে দাফন করা হয়। এসময় সিঙ্গাইর থানা পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করে।
পরে মরদেহের ছবি দেখে আত্বীয় স্বজন আয়েশা আক্তার বকুলের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। আয়শার বড় ভাই উজ্জল হোসেন এ ঘটনায় সেলিম মণ্ডলকে প্রধান আসামি করে সিঙ্গাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সেলিম মণ্ডল বেশ কিছুদিন পালিয়ে থেকে গত ২৮ আগস্ট উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তাকে অস্থায়ী জামিন দেন।
অস্থায়ী জামিনে থাকা অবস্থায় সেলিম মণ্ডল গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশ থেকে পালিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমেগ্রেশন থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে সিঙ্গাইর থানা পুলিশের কাছে আটক সেলিম মণ্ডলকে হস্তান্তর করা হয়।
গত ৬ সেস্টেম্বর আদালতে সেলিম মণ্ডলকে হাজির করে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় সিঙ্গাইর পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আরো পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। তবে রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই সেলিম মণ্ডল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর পর সেলিম মণ্ডল হাইকোট থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হন।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ