নড়াইলে একাদশ শ্রেণিতে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ
নড়াইলের কালিয়া সরকারি শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কর্তৃপক্ষ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার ৭শ’ টাকা থেকে ১ হাজার ৮শ’ টাকা করে আদায় করছে বলে ডিসি বরাবর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
অভিযোগে জানা যায়, সরকারি শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজে চলতি বছর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনলাইন প্রসেসিং ফি, ভর্তি ফি, ভর্তিকরণের নামে একাদশ শ্রেণির ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী প্রতি মানবিক ও বাণিজ্যিক বিভাগে ১ হাজার ৭শ’ ও বিজ্ঞান বিভাগে ১ হাজার ৮শ’ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।
.png)
সরকার নির্ধারিত উপজেলা পর্যায়ে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বমোট ১ হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না বলে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইনের স্বাক্ষরিত ২১ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকার কলেজের জন্য সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্ব সাকুল্যে এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ সরকারি নিয়মনীতি মানছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ।
গত ১৮ জুন থেকে প্রথম ধাপে ভর্তি শেষ হয়েছে। চলছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভর্তির কাজ। সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। গরীব, অসহায়, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দেয়া হচ্ছে না। কলেজ কর্তৃপক্ষের ধার্য টাকার স্থলে কম দিলে ওই শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না।
সরকারি শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী আদরী খানম ও মেহেদী হাসান মানবিক শাখা এবং নাহিদ শেখ বাণিজ্য শাখা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কাছ থেকে রসিদ মূলে ১ হাজার ৭শ’ টাকা নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত এ অর্থ আদায়ের এ বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে উল্লেখ না থাকায় এটি বিধি বহির্ভূত। বিধায় রোববার প্রতিকারের আশায় আমরা নড়াইল ডিসি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে ভর্তি কমিটির আহবায়ক সুরেশ কুমার রায় বলেন, ভর্তি সংক্রান্ত ব্যাপারে অধ্যক্ষ যে সমন্ত খাতে টাকা ধরেছেন তার বাইরে অতিরিক্ত কোন টাকা নেয়া হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে কলেজের উপাধ্যক্ষ কামাল মাহমুদ অভিযোগ স্বীকার করে জানান, আইনের উর্ধ্বে আমরা কেউ নই। তাই আইনের বাইরে আমরা যেতে পারি না। কিন্তু অধ্যক্ষ নিজে দায়িত্ব নিয়ে ভর্তিতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। এ কর্মকাণ্ড বোর্ড কর্তৃক প্রেরিত সরকারি কলেজের ভর্তি প্রজ্ঞাপন বর্হিভূত। এটা আমাদের কাম্য নয়।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ তপন কুমার দাশ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বোর্ডের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভর্তির টাকা নেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত কোনো টাকা আদায় করা হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে কালিয়া উপজেলার ইউএনও নাজমুল হুদা বলেন, এ বিষয় খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম