ষাঁড়টির সঙ্গে থাকা পাঁচভাই রেস্টুরেন্টের কর্মচারী ইসলাম আলী জানান, ষাঁড়টি নিয়ে আমরা সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে হেঁটে হেঁটে জবাই করার কথা বলে আসছি। জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বারখানা, মদিনা মার্কেট, বাগবাড়ি মেডিকেল রোডসহ বিভিন্ন সড়কে হেটে হেটে প্রচারণা চালিয়ে আসছি। পশুটির সঙ্গে থাকায় মানুষের নজরও আমাদের দিকে ছিল। তিনি বলেন, এভাবে প্রায়ই আমরা বড় ষাঁড় জবাই করার আগে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পশু নিয়ে দেখিয়ে আসি। আর তাতে ভালো সাড়াও মিলে।
তবে এ বিষয়ে সেভ দ্য হেরিটেজ এর সভাপতি আব্দুল হাই আল হাদি জানান, পশুটি জবাই করা আইনত কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু জবাই করার আগের এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত খারাপ। এটা কোনো মানবতার মধ্যে পড়ে না।
.png)
তিনি আরো বলেন, এরকম একটি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টে এ ধরণের প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই উচিত না। শুধু এই রেস্টুরেন্ট না অন্যান্য সময়ও আমরা পশু জবাই নিয়ে প্রচার-প্রচারণা করতে দেখেছি। যারা এসব কর্মকাণ্ড করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রাণি কল্যাণ আইনে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
ভূমিসন্তান বাংলাদেশ সিলেটের সমন্বয়ক আশরাফুল কবীর বলেন, খাদ্যের জন্য আমরা প্রাণি হত্যা করছি। কিন্তু এজন্য পশুর প্রতি নির্মম হওয়া উচিত না। প্রত্যেক প্রাণির জীবন ধারণের অধিকার আছে। কিন্তু অতি মুনাফা ও বাণিজ্যের জন্য তাদের প্রতি অবিচার করছি। পশুর প্রতি এমন নির্যাতন কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রাধিকার’র সাবেক সভাপতি মঞ্জুর কাদের চৌধুরী বলেন, যাদের মনুষত্ব নেই তাদের জন্যই আইন। যাদের বিবেক আছে তাদের জন্য আইনের প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, যারা পশুর প্রতি এমন অবিচার করে তাদের প্রচলিত আইনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, খাদ্যের জন্য আমরা যে পশু জবাই করি তাতে অনেক নিদের্শনা আছে। অমানবিকভাকে কোনো পশু জবাই করলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আমরা এসব মানি না। পশুর প্রতি মানবিক হতে হলে আগে মানুষের মধ্যে মানবতা জন্মাতে হবে। শুধু আইন করলেই এটি বাস্তবায়ন হবে না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ বলেন, এটা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা যে পশুটি জবাই করছে এটাও বৈধ না। একটি পশু জবাইর আগে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে চেকআপ শেষে নির্ধারিতস্থানে জবাই করার কথা। কিন্তু তারা এসব মানছে না। আমরা কি খাচ্ছি তাও আমরা জানি না। তিনি বলেন, এসব অপরাধগুলো নিরসন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে। তা না হলে এসব নিমর্মতা বন্ধ হবে না।
সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিয়ার রহমান জানান, কোনো পশুকেই অযাচিত কষ্ট দেয়া যাবে না। এছাড়া প্রহার ও ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে আইন রয়েছে। এসব আইনে দণ্ডের বিধানও রয়েছে। যারা এ ধরণের অমানবিক কাজ করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
তিনি আরো বলেন, ব্রিটিশরা এই আইন করে গেছে। আমরা এটাকে আরো ‘রেকটিফাই’ করছি। তবে বেশিরভাগ মানুষই আইন সম্পর্কে জানে না। তাই আইনগুলো নিয়ে ক্যাম্পেইন করবো। মানুষকে বুঝাবো। তারপরও যারা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস