এভাবেই নিজের কথাগুলো বলছিলেন যুবক নুরুল ইসলাম। এক ভয়ঙ্কর নারীর ফাঁদে পড়ে যিনি এখন নিঃস্ব।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনে নুরুল ইসলাম বলেন, রড সিমেন্টের ব্যবসা অনেক টাকা লাগে, টাকার অভাবে সেই ভাবে করতে পারছিলাম না। নিজের মধ্যে চিন্তা ছিল যে বড় কিছু করার। সেই ভাবনা থেকেই বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি খোঁজাখুঁজি করি। একদিন পেপার পড়তে পড়তে হঠাৎ একটি বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ে।
.png)
বিজ্ঞপ্তিতে লেখা ছিল- পাত্র চাই। পাত্রীর খরচে পাত্রকে কানাডা নিয়ে যাওয়া হবে এবং আর্থিক খরচ সম্পূর্ণ পাত্রী পক্ষের। এই বিজ্ঞাপন দেখে মনের মধ্যে এক ধরনের উৎফুল্ল সৃষ্টি হয়। পত্রিকায় দেয়া মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে পাত্রী (সানজিদা) আমাকে দেখা করার কথা বলে। তার কথায় আমি দেখা করার জন্য গাজীপুর থেকে ঢাকায় যাই।
তার সঙ্গে দেখা করার পর সে আমাকে কানাডার গ্রীন কার্ড দেখায় সঙ্গে আরো কিছু কাগজ পত্র দেখানোর ফলে তার প্রতি আমার এক ধরনের বিশ্বাস তৈরি হয়। এরপর তিনি আমাকে বলেন, আপনি যদি রাজি থাকেন আপনাকে কানাডা নিয়ে যাবো। আপনাকে পছন্দ হয়েছে। এরপর সেদিন বিদায় নিয়ে চলে আসি।
এইভাবে ধীরে ধীরে তার সঙ্গে আরো সম্পর্ক তৈরি হয় এবং এই ফাঁকে সে আমার ভোটার আইডি কার্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিয়ে নেয়। পাসপোর্ট করার কথা বলে আবারো আমাকে উওরায় ডাকে এবং ১০০ টাকার স্টেম্প ও ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে আমার সই নেয়। আর আমাকে বলে, এসব উকিল দিয়ে এফিডেফিট করাতে হবে।
এরপর একদিন হঠাৎ আমাকে বলে, সুখবর আছে। আমাদের কাবিনের কাগজ নাকি এফিডেফিট হয়ে চলে আসছে, আমি খুব তাড়াতাড়ি কানাডায় চলে যাবো।
এর ঠিক এক সপ্তাহ পর সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সে বলে, আগে কাবিন হয়েছে কিন্তু বিয়ে হয়নি। তাই বিয়ে করতে হবে। আর বিয়ে করতে গেলে কিছু খরচ আছে। আমার পরিবারের কাছে আমি তো আর তোমায় ছোট করতে পারবো না। তারা তো তোমায় দেখবে। তাদের কাছে তো আমি তোমায় খালি হাতে নিতে পারবো না। তখন আমি তাকে প্রশ্ন করি, এখন বিয়ে করতে হলে কত খরচ হবে। সে ৪ থাকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা লাগবে বলে জানায়।
দোকানটা ছেড়ে দিবো কি না জিজ্ঞেস করলে সে ছেড়ে দিতে বলে। বেকার হয়ে যাবার কথা বললে সে বলে, নো টেনশন, তুমি তো কানাডায় চলে যাচ্ছো। এ কথা শুনে দোকানের মাল বিক্রি ও এডভান্সের ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা ছাড়াও আরো ১ লাখ ধার করি।
এরপর সানজিদার সঙ্গে দেখা করতে উওরায় যাই। সে আমাকে অনেক মিষ্টি নিয়ে আসার কথা বলে। আমি হাউজবিল্ডিং নামার পর সানজিদা আমার জন্য একটি গাড়ি পাঠায়। গাড়িতে উঠার পরে দেখি সানজিদা সেই গাড়ির ভিতরেই বসে আছে। সে বলে, আগে শপিং করে তারপর বাসায় যাবো। আমিও রাজি হয়ে যাই।
মার্কেটে গিয়ে জুতা থেকে শুরু করে সব কিছুই কিনে দিয়েছি। কেনাকাটা যখন শেষ তখন সে বলে, সব কিছু তো আমার জন্যই কিনলে; চলো আমার টাকায় তোমাকে কিছু কিনে দেই। আমরা একটি প্যান্টের দোকানে ঢুকি। প্যান্ট পছন্দ হওয়ার পর সে আমাকে ঠিক আছে কিনা দেখার জন্য ট্রায়াল রুমে পাঠায়। বের হয়ে সানজিদাকে আমি আর দেখতে পাইনি। এই ফাঁকে সে পালিয়ে যায়।
ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ