ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আজও অরক্ষিত মালিপাথর বধ্যভূমি

ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:১৪, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯
আজও অরক্ষিত মালিপাথর বধ্যভূমি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্যাতন-গণহত্যার অন্যতম সাক্ষী ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মালিপাথর গ্রাম।

১৯৭১ সালের ৪ নভেম্বর মুক্তিকামী অসংখ্য নারী-পুরুষকে হত্যার পর গ্রামের খাল-নদী, ডোবা-নালা ও গভীর জঙ্গলে ফেলে দিয়েছিলো হানাদাররা। স্বাধীনতার ৪৮ পার হলেও চিহ্নিত হয়নি এসব বধ্যভূমি। 

ওইদিন সকালে পরশুরামের শালধর বাজারের হানাদার ক্যাম্পে হামলা করতে মালিপাথর গ্রামে অবস্থান নেয় মুক্তিবাহিনী। আক্রমণের পর হানাদাররা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এরপর হানাদার বাহিনী ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসে গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে সেদিন ১৯ জন নিহত হন। তাদের মরদেহ ফেলা হয় গ্রামের একটি জঙ্গলে।

Advertisement

বিভীষিকাময় সেই হত্যাযজ্ঞের প্রত্যক্ষদর্শী মাস্টার নুরুল ইসলাম জানান, ৪ নভেম্বর ছিল বৃহস্পতিবার। সকাল ৯টায় পাকিস্তানী সৈন্যরা গ্রামবাসীদের নির্বিচারে হত্যা, অগ্নিসংযোগ করে। আমার কাচারি ঘরে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। হানাদাররা ওই বাড়িতে ঢুকে ১৯ জন শহীদ হন। সেদিন শহীদদের জানাজা পড়িয়েছিলেন মালিপাথর ভূঁইয়া বাড়ির মৌলভী সৈয়দুর রহমান। শহীদদের দাফন করা হয় কাফন ছাড়াই।

পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার জানান, মালিপাথর গ্রামসহ উপজেলার অসংখ্য গণকবর, বধ্যভূমি আজও চিহ্নিত হয়নি। কিছু বধ্যভূমি চিহ্নিত হলেও পড়ে আছে অরক্ষিত অবস্থায়।

তিনি আরো জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অরক্ষিত এবং অচিহ্নিত গণকবর-বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিত করা হবে। মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!