উপজেলার শিমুল তলা-গইরারাজ গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল মতিনের জমিতে বাদাম তোলা শুরু হয়েছে।
এ সময় কথা হয় শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া হাবিবা বেগমের সঙ্গে। সে বললো, স্কুল বন্ধ তাই চলে এসেছে বাদাম তুলতে। প্রতিবছর গ্রামের লোকজন এভাবেই দলবেঁধে নারী-পুরুষরা কৃষকদের বাদাম তুলে দেন। তবে বিনা পারিশ্রমিকে নয়। সবাই মিলে যে পরিমাণ বাদাম তুলবে তার ১০ ভাগের একভাগ তারা পায়। এতে করে বাদাম তুলে দৈনিক ৪-৫শ’ টাকা আয় করা সম্ভব।
.png)
হাবিবার পাশেই ছাতা টানিয়ে দুটি শিশু নিয়ে বাদাম তোলায় ব্যস্ত রতনা বেগম। তিনি জানান, এখানে এসেছেন বাড়তি আয়ের জন্য। তাছাড়া রমজান মাস সময়ও ভাল কাটে। বাদাম তুলতে এসেছে হাবিবা, রুজিনা বেগম, তাছলিমা বেগমসহ অনেকেই।
পাশেই জমির মালিক উত্তর বড়দল ইউপি শিমুলতলা গইরারাজ গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল মতিন জানান, এবার বাদাম চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। প্রতি কিয়ারে ৬-৭ মন বা তার চেয়ে বেশি হতে পারে। আর প্রতি মন বাদামের বাজার মূল্য ২৫শ’ থেকে তিন হাজার টাকা।
সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে লকডাউনের কারণে বাদাম কেনার জন্য বাইর থেকে কোনো পাইকার না আসায় তার মতো অনেক কৃষক অনেকটা বাধ্য হয়েই বাড়িতে আলাদা গোলা তৈরি করে বাদাম সংরক্ষণ করবেন। লাভ কেমন হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, চলতি বছর উপজেলার বাদাঘাট, দক্ষিণ বড়দল, শ্রীপুর উত্তর, বড়দল উত্তর, বালিজুড়ি, তাহিরপুর সদর ইউপিসহ ছয়টি ইউপিতে ১২৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। আর বেশি চাষ হয়েছে বাদাঘাট আর উত্তর বড়দল ইউপিতে। বাদামের ফলন গত বছরের তুলনায় এবার ভাল।
কৃষকরা জানান, বাদামের বাম্পার ফলন হলেও করোনা সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে লকডাউন চলায় পরিবহন বন্ধ থাকায় কিছুটা চিন্তিত তারা। আগে জমি থেকে বাদাম উত্তোলন করার পরপরই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এসে জমি থেকেই কিনে নিয়ে যেত বাদাম। এবার তা আর হচ্ছে না। এছাড়া বাদাম সংরক্ষণের জন্য আলাদাভাবে ব্যবস্থা করতে গিয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান-উদ-দৌলা জানান, এ বছর উপজেলার ৭ ইউপির মধ্যে ৬টিতেই বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। এখন উৎসবমুখর পরিবেশে বাদাম তোলা আর শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক।